শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬

সাড়ে ৬ বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১৫ হাজার ৭১২ জনের


দেশে গত সাড়ে ৬ বছরে ১৬ হাজার ৬৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ হাজার ৭১২ জন এবং আহত হয়েছেন ১৪ হাজার ১৪৩ জন। নিহতদের বড় একটি অংশ কিশোর ও তরুণ। আহতদের ৫৮ শতাংশের বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

৮ আগস্ট ২০২৬, ৮:৫৪ অপরাহ্ণ 

সাড়ে ৬ বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১৫ হাজার ৭১২ জনের
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত সাড়ে ৬ বছরে ১৬ হাজার ৬৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৫ হাজার ৭১২ জন নিহত এবং ১৪ হাজার ১৪৩ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (৮ আগস্ট) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পাঠানো এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ৩৯ দশমিক ৩০ শতাংশই ঘটেছে ভারী যানবাহনের ধাক্কায়। আর ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে। এছাড়া প্রায় ২২ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে মুখোমুখি সংঘর্ষে। দুর্ঘটনার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী করা হয়েছে পণ্যবাহী যানবাহনকে। পাশাপাশি কিশোর ও তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতাকেও অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের ৫৮ শতাংশের বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ, চার চাকার অন্যান্য যানবাহনের তুলনায় মোটরসাইকেল প্রায় ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তবে দেশে সহজলভ্য ও উন্নত গণপরিবহনের ঘাটতি এবং অসহনীয় যানজটের কারণে মানুষ মোটরসাইকেল ব্যবহারে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। এর ফলে মোটরসাইকেলের সংখ্যা ও দুর্ঘটনা-দুটিই বাড়ছে।

দুর্ঘটনার জন্য মোটরসাইকেল চালক এককভাবে দায়ী ৩৬ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে। পণ্যবাহী যানবাহনের কারণে ঘটেছে প্রায় ৪০ শতাংশ দুর্ঘটনা। আর বাসচালকদের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে প্রায় সাড়ে ১৩ শতাংশ। সড়কের ধরন অনুযায়ী, গত সাড়ে ৬ বছরে ঘটে যাওয়া মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার প্রায় ৩০ শতাংশ ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে। আঞ্চলিক সড়কে ৪২ শতাংশ, গ্রামীণ সড়কে ১২ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে সাড়ে ১৬ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, দেশে নিবন্ধিত মোট মোটরযানের প্রায় ৭১ শতাংশই মোটরসাইকেল। এর একটি বড় অংশ কিশোর ও তরুণেরা ব্যবহার করেন। তাদের মধ্যে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতাও বাড়ছে। মোটরসাইকেল উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিজ্ঞাপনের ভাষা ও উপস্থাপনাও অনেক ক্ষেত্রে কিশোর-তরুণদের অতিরিক্ত গতির প্রতি আকৃষ্ট করছে এবং দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালাতে উৎসাহিত করছে।

প্রতিবেদনে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে কিশোর-যুবকদের বেপরোয়া চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর সংস্কৃতি, ট্রাফিক আইন প্রয়োগে দুর্বলতা, সচেতনতামূলক কর্মসূচির ঘাটতি, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও নজরদারির অভাব, সহজ ও সাশ্রয়ী গণপরিবহনের সংকট এবং তীব্র যানজটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

দুর্ঘটনা কমাতে মোটরসাইকেলে নিরাপত্তা ও নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। একই সঙ্গে মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপত্তামূলক প্রচারণা চালানো, মোটরসাইকেলের বিজ্ঞাপনের ভাষা ও উপস্থাপনায় পরিবর্তন আনা, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ এবং সহজ, সাশ্রয়ী ও যাত্রীবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ও এতে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।