শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬

মরক্কো থেকে সাঁতরে স্পেনে ৬০ হাজার অভিবাসী


স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সেউতায় মাত্র ২৪ ঘণ্টায় মরক্কো থেকে ৬০ হাজারের বেশি অভিবাসী প্রবেশ করেছেন। সীমান্ত অতিক্রমের সময় ডুবে ও পদদলিত হয়ে অন্তত ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন, অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে স্পেন।

১ আগস্ট ২০২৬, ৯:০৮ পূর্বাহ্ণ 

মরক্কো থেকে সাঁতরে স্পেনে ৬০ হাজার অভিবাসী
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সেউতায় মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ৬০ হাজারের বেশি অভিবাসীর প্রবেশে নজিরবিহীন মানবিক ও নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে। সীমান্ত অতিক্রমের সময় অন্তত ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।

বার্তা সংস্থা এপি জানায়, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) থেকে শুক্রবার (৩১ জুলাই) পর্যন্ত স্থল ও সমুদ্রপথে মরক্কো থেকে হাজার হাজার মানুষ সেউতায় প্রবেশ করেন। অনেকেই সমুদ্র সাঁতরে পানির ওপর নির্মিত সীমান্ত প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে স্পেনের ভূখণ্ডে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় শুক্রবার সেউতা সফর করেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি বলেন, সংকট মোকাবিলায় সরকার সব ধরনের উপলব্ধ সম্পদ ব্যবহার করছে। এ সময় তার সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাসকাও ছিলেন। সরকারের এক মুখপাত্র জানান, নিহতদের কেউ সমুদ্রে ডুবে এবং কেউ সেউতার ব্রেকওয়াটারে ওঠার সময় পদদলিত হয়ে মারা গেছেন। তবে কোন কারণে কতজনের মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন করে প্রবেশকারীদের দ্রুত মরক্কোয় ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুধু শুক্রবারই প্রায় ২৫ হাজার অভিবাসীকে সেউতা থেকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে। এদিকে, সিভিল গার্ড সদস্যদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনের নেতা রাশিদ সিবিহি পরিস্থিতিকে "গুরুতর মানবিক সংকট" হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, হাজার হাজার অভিবাসী -যাদের মধ্যে অভিভাবকহীন শিশুও রয়েছে , ফুটপাতে রাত কাটাচ্ছে এবং অনেকেই উদ্দেশ্যহীনভাবে সেউতার রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।

বিবিসি জানিয়েছে, স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক এক রায়ের পর এই অভিবাসী ঢলের ঘটনা ঘটে। আদালত রায়ে বলেছে, সেউতা বা স্পেনের আরেকটি উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড মেলিয়ায় পৌঁছানোর চেষ্টা করার সময় সমুদ্রে আটক হওয়া অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো যাবে না।

অন্যদিকে, ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই স্পেন সীমান্তে কঠোর তল্লাশি ও নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত হস্তক্ষেপকারী সীমান্ত বাহিনী মোতায়েনেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই সংকটের প্রভাব ইউরোপের অন্য দেশেও পড়তে শুরু করেছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সতর্ক করে বলেছেন, সীমান্ত নিরাপত্তা ও নাগরিকদের সুরক্ষার স্বার্থে প্রয়োজন হলে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন চুক্তির আওতায় উন্মুক্ত সীমান্ত ব্যবস্থাও স্থগিত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

এদিকে, সেউতার আঞ্চলিক সরকারের প্রধান হুয়ান হেসুস ভিভাস জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি অবস্থা ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সীমান্তে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন। তবে স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি নাকচ করে দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মতে, অভিবাসন সংকট মোকাবিলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রয়োজন নেই। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত জনবল ও প্রয়োজনীয় সম্পদ পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছে সরকার।

সূত্র: এপি, বিবিসি ও রয়টার্স।