যুক্তরাষ্ট্রে চালু হলো ইলন মাস্কের ‘এক্স মানি’
৩০ জুলাই ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে আগামী আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশ থেকে নতুন কর্মী মালয়েশিয়ায় পাঠানো শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-এর মাধ্যমে স্বল্প খরচে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় মালয়েশিয়া সফররত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
তিন দিনের মালয়েশিয়া সফরের অগ্রগতি তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ পুনরায় চালু করতে দুই দেশের সরকারের মধ্যে উচ্চপর্যায়ে একাধিক ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এসব আলোচনায় বন্ধ থাকা শ্রমবাজার পুনরায় চালু, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনার বিষয়ে উভয় পক্ষ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। নতুন কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হবে মধ্যস্বত্বভোগী ও দালালচক্রের প্রভাব কমিয়ে আনা। এজন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের মাধ্যমে স্বল্প খরচে কর্মী পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে সাধারণ কর্মীরা নিরাপদ, বৈধ ও কম খরচে মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পান।
মাহদী আমিন আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকেই নতুন কর্মীরা পর্যায়ক্রমে মালয়েশিয়ায় যেতে শুরু করবেন। পরবর্তীতে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে। শ্রমবাজারকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও কর্মীবান্ধব করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির নতুন সুযোগ তৈরিতেও দুই দেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে টেকসই কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, চলমান আলোচনা শুধু নতুন কর্মী পাঠানোর বিষয়েই সীমাবদ্ধ নয়। মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের কল্যাণ, অধিকার সুরক্ষা এবং কর্মপরিবেশ উন্নয়নের বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। সরকার এমন একটি নিয়োগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে যোগ্য কর্মীরা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং অযৌক্তিক খরচ কিংবা দালালচক্রের হয়রানির শিকার হবেন না।
মাহদী আমিন আশা প্রকাশ করেন, সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। এর মাধ্যমে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহও আরও শক্তিশালী হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে দ্রুত কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কর্মী নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কর্মীবান্ধব নীতি নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।