সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

ই-পাসপোর্টে নতুন জলছাপে যুক্ত হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের ছবি


বাংলাদেশের ই-পাসপোর্টের নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে সরকার। নতুন জলছাপে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’-এর তিন শহীদের ছবি, বিভিন্ন ধর্মের প্রতীক এবং ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ (Except Israel) শব্দবন্ধ পুনরায় যুক্ত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে রোববার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে আদেশ জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

১৯ জুলাই ২০২৬, ১০:০৪ অপরাহ্ণ 

ই-পাসপোর্টে নতুন জলছাপে যুক্ত হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের ছবি
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

বাংলাদেশের ই-পাসপোর্টের জলছাপ ও নকশায় ব্যাপক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন সংস্করণে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’ শিরোনামে তিন শহীদের ছবি সংযোজনের পাশাপাশি ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টধর্মসহ বিভিন্ন ধর্মের প্রতীক অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাসপোর্টে আবারও ফিরছে বহুল আলোচিত ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধ।

রোববার এ সংক্রান্ত একটি সরকারি আদেশ জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আদেশে ই-পাসপোর্ট বুকলেটের বিদ্যমান জলছাপ ও চিত্র পুনর্বিন্যাস, পরিবর্ধন এবং সংশোধনের মাধ্যমে নতুন নকশা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে বলা হয়েছে।

নতুন জলছাপে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’ শিরোনামে স্থান পাচ্ছেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাঈদ, ঢাকার উত্তরার আজমপুরে নিহত শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ এবং চট্টগ্রামের ছাত্রদল নেতা শহীদ ওয়াসিম আকরাম। এ ছাড়া নতুন নকশায় দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রতিফলন হিসেবে ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টধর্মের প্রতীকও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০২০ সালে ই-পাসপোর্ট চালুর সময় ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধটি বাদ দেওয়া হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভবিষ্যতে ইস্যু হওয়া ই-পাসপোর্টে এটি পুনরায় যুক্ত থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতি, জনমত এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে দেশের অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন নকশা প্রণয়নের অংশ হিসেবে বিদ্যমান জলছাপ থেকে কয়েকটি স্থাপনা ও প্রতীক বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতার স্তম্ভ, মডেল মসজিদ, বঙ্গবন্ধু সেতু (যমুনা সেতু), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, নৌকাসহ কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের একটি চিত্র, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ।

অন্যদিকে নতুন জলছাপে স্থান পাচ্ছে জাতীয় পরিচয় ও ঐতিহ্যের বিভিন্ন প্রতীক। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় ফুল শাপলা, রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, জাতীয় পাখি দোয়েল, শহীদ মিনার, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, জাতীয় সংসদ ভবন, সুপ্রিম কোর্ট, কান্তজিউ মন্দির, শিখা অনির্বাণ, লালবাগ কেল্লা, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, টাঙ্গুয়ার হাওর, জাতীয় মাছ ইলিশ, নীলগিরি, আহসান মঞ্জিল, জাতীয় ফল কাঁঠাল, স্বর্ণমন্দির, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, রাজশাহীর আমবাগান, পানাম নগর, কার্জন হল, ষাটগম্বুজ মসজিদ, পাট, চা-বাগান, সুন্দরবন, হলি রোজারি চার্চ এবং শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘সংগ্রাম’।

ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন নকশার ই-পাসপোর্ট ধাপে ধাপে ইস্যু করা হবে। বর্তমানে যাদের ই-পাসপোর্ট রয়েছে, তাদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না। বিদ্যমান পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে নবায়নের সময় তারা নতুন জলছাপসংবলিত ই-পাসপোর্ট পাবেন।