রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

বিশ্বকাপ সম্প্রচারে ২০২২ সালে ১৪০ কোটি টাকার লুটপাটের অভিযোগ: তথ্যমন্ত্রী


তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন দাবি করেছেন, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ সম্প্রচারের স্বত্ব কেনার প্রক্রিয়ায় মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে প্রায় ১৪০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছিল। তিনি বলেন, এবার ফিফার কাছ থেকে সরাসরি সম্প্রচার স্বত্ব কিনে সাব-লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে অধিকাংশ অর্থ ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। ফলে সরকারের প্রকৃত ব্যয় নেমে এসেছে আনুমানিক ৪ থেকে ৫ কোটি টাকায়।

১৯ জুলাই ২০২৬, ১:২০ অপরাহ্ণ 

বিশ্বকাপ সম্প্রচারে ২০২২ সালে ১৪০ কোটি টাকার লুটপাটের অভিযোগ: তথ্যমন্ত্রী
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচারের স্বত্ব কেনাকে কেন্দ্র করে ২০২২ সালে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ তুলেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তাঁর দাবি, সে সময় মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে প্রায় ১৪০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। তবে এবারের বিশ্বকাপে ফিফার কাছ থেকে সরাসরি সম্প্রচার স্বত্ব কেনায় সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

রোববার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশ সরাসরি ফিফার কাছ থেকে ৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলারে সম্প্রচার স্বত্ব (মিডিয়া রাইটস) কিনেছে। পরে দেশের চারটি প্রতিষ্ঠানের কাছে সাব-লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে ওই স্বত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে। এতে সরকারের ব্যয়ের বড় অংশই উঠে এসেছে।  সাব-লাইসেন্সিং থেকে প্রাপ্ত অর্থের মাধ্যমে প্রায় পুরো খরচই পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এমনকি সরকারের প্রদেয় করও সরকারি কোষাগারেই জমা হয়েছে। সব হিসাব শেষে সরকারের প্রকৃত ব্যয় দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা।  যদি আরও আগে থেকে আলোচনার সুযোগ পাওয়া যেত এবং ফিফার সঙ্গে অতিরিক্ত দর-কষাকষি করা সম্ভব হতো, তাহলে এই ব্যয়ও শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা যেত।

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের ব্যয়ের সঙ্গে এবারের ব্যয়ের তুলনা করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সে সময় ফিফার কাছ থেকে ৩ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলারে সম্প্রচার স্বত্ব কেনা হলেও বাংলাদেশ সরাসরি ফিফার সঙ্গে চুক্তি করেনি। প্রথমে শ্রীলঙ্কা ও সিঙ্গাপুরের একটি যৌথ কোম্পানি সেই স্বত্ব কিনে নেয়। পরে দেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন ওই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে স্বত্ব সংগ্রহ করে। এরপর বাংলাদেশ সরকার বিটিভির জন্য তমা কনস্ট্রাকশনের কাছ থেকে ৯৮ কোটি টাকায় সম্প্রচার স্বত্ব কিনেছিল। একই সঙ্গে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টি স্পোর্টসের কাছে স্যাটেলাইট সম্প্রচার স্বত্ব ২২ কোটি টাকা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম টফির কাছে ডিজিটাল সম্প্রচার স্বত্ব ১৭ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ১৪০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল, যা তাঁর ভাষায় ‘সন্দেহজনক’।

মন্ত্রী দাবি করেন, তমা কনস্ট্রাকশন মূল বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে মাত্র ৩ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছিল। বাকি অর্থের একটি বড় অংশ মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে আত্মসাৎ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ২০২২ সালের ব্যয়ের সঙ্গে ২০২৬ সালের ব্যয়ের তুলনা করলেই বোঝা যাবে, আগের সরকার কীভাবে মধ্যস্বত্বভোগীদের ব্যবহার করে রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় করেছে।

তথ্যমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য ছিল জনগণকে বিশ্বকাপের খেলা দেখানো, তবে অতিরিক্ত সরকারি অর্থ ব্যয় না করা। এ লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ফিফার সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা ও দর-কষাকষি করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা, ফিফা কর্তৃপক্ষ এবং ক্রীড়া সাংবাদিকদের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সরাসরি ফিফার কাছ থেকে সম্প্রচার স্বত্ব সংগ্রহ এবং সাব-লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আগের প্রক্রিয়ায় দুই স্তরের মধ্যস্বত্বভোগী ছিল-একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান এবং দেশের তমা কনস্ট্রাকশন। তাঁদের মাধ্যমে জনগণের করের অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল। অথচ এবার সরাসরি ফিফার সঙ্গে চুক্তি করায় সরকারের ব্যয় নেমে এসেছে মাত্র ৪ থেকে ৫ কোটি টাকায় বলে তিনি দাবি করেন।