অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি ইসির
৯ জুলাই ২০২৬, ১০:১৩ পূর্বাহ্ণ
তীব্র গরমের পর বর্ষার আগমন আমাদের স্বস্তি দিলেও, এই মরসুম সাথে করে নিয়ে আসে একগুচ্ছ রোগবালাই। আবহাওয়া পরিবর্তন, চারপাশের স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ এবং জমা জলের কারণে বর্ষাকালে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও মশার উপদ্রব মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। ফলে ঘরে ঘরে দেখা দেয় জ্বর, সর্দি, কাশির মতো নানা সমস্যা। চিকিৎসকদের মতে, সামান্য অসাবধানতার কারণে এই সময়ে যে কেউ বড় ধরনের রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।
বর্ষাকালে সাধারণত কী কী রোগ বেশি হয় এবং কীভাবে এগুলো থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন, তা নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়া
বর্ষার সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হলো মশার বংশবৃদ্ধি। বৃষ্টির জল বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকায় এডিস ও অ্যানোফিলিস মশার উপদ্রব বাড়ে।
লক্ষণ: তীব্র জ্বর, গায়ে-হাতে-পায়ে ও জয়েন্টে প্রচণ্ড ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা এবং চামড়ায় র্যাশ ওঠা।
প্রতিকার: বাড়ির আশেপাশে, টবে, ডাবের খোল বা টায়ারে যেন জল জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন। দিনে বা রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করুন। হালকা রঙের এবং শরীর ঢাকা পোশাক পরুন। মশা তাড়ানোর ক্রিম বা লিকুইড ব্যবহার করতে পারেন।
২. জলবাহিত রোগ (টাইফয়েড, ডায়রিয়া ও জন্ডিস)
বর্ষায় পানীয় জলের উৎসগুলো সহজেই দূষিত হয়ে পড়ে। দূষিত জল ও বাসি খাবার খাওয়ার মাধ্যমে টাইফয়েড, গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস (ডায়রিয়া), কলেরার মতো ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ এবং জন্ডিসের (হেপাটাইটিস এ) মতো ভাইরাসজনিত রোগ ছড়ায়।
লক্ষণ: পেট ব্যথা, ঘন ঘন পাতলা পায়খানা, বমি, উচ্চ মাত্রার জ্বর এবং চোখ-প্রস্রাব হলুদ হয়ে যাওয়া।
প্রতিকার: সবসময় জল ফুটিয়ে বা ফিল্টার করে পান করুন। বাইরে খাওয়ার সময় জলের গুণগত মান নিশ্চিত করুন। বাসি, খোলা বা রাস্তার ধারের কাটা ফল ও খাবার খাওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন। খাওয়ার আগে এবং শৌচাগার ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধোওয়ার অভ্যাস করুন।
৩. ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ভাইরাল ফিভার (সর্দি-জ্বর)
আবহাওয়ার হঠাত পরিবর্তনের কারণে এবং বৃষ্টিতে ভিজলে এই সময়ে ভাইরাল জ্বরের প্রকোপ খুব সাধারণ।
লক্ষণ: গলা ব্যথা, নাক দিয়ে জল পড়া, সর্দি, কাশি, হালকা বা তীব্র জ্বর এবং মাথাব্যথা।
প্রতিকার: হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজে গেলে দ্রুত মাথা ও শরীর শুকিয়ে নিন এবং জামাকাপড় বদলে ফেলুন। ভিটামিন-সি যুক্ত খাবার (লেবু, আমলকী, পেয়ারা) বেশি করে খান, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি থেকে দূরে থাকুন।
৪. ত্বকের সংক্রমণ ও ছত্রাকজনিত রোগ
টানা বৃষ্টি আর স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার কারণে ত্বকে ফাঙ্গাল ইনফেকশন বা দাদ, চুলকানি ও হাজা হওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে নোংরা জল পায়ে লাগলে আঙুলের ফাঁকে ইনফেকশন হয়।
প্রতিকার: বাইরে থেকে ফিরে পা সাবান ও পরিষ্কার জল দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। বেশিক্ষণ ভেজা জুতো বা মোজা পরে থাকবেন না। ঢিলেঢালা ও সুতির পোশাক পরার চেষ্টা করুন, যাতে শরীর সহজে শুকিয়ে যায়।
বর্ষার এই সময়ে সুস্থ থাকতে হলে নিজের ও চারপাশের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সবচেয়ে জরুরি। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত জল পান করতে হবে। যেকোনো ধরনের জ্বর বা পেটের সমস্যাকে সাধারণ ভেবে অবহেলা না করে, চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্ত পরীক্ষা করানো উচিত।