দেশে হাম ও এর উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১১০৭
৫ জুলাই ২০২৬, ১০:২১ পূর্বাহ্ণ
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর প্রথম ম্যাচে রীতিমতো নাটকীয় এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে মরক্কো। ম্যাচের প্রথমার্ধে কানাডার দাপটের সামনে রক্ষণ সামলাতে ব্যস্ত থাকলেও বিরতির পর আক্রমণাত্মক ফুটবলে ভর করে ৩-০ গোলের বড় জয় তুলে নিয়েছে উত্তর আফ্রিকার দেশটি। এই জয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে মরক্কো।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সহআয়োজক কানাডা। ষষ্ঠ মিনিটে জনাথন ডেভিডের বিপজ্জনক শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। এরপর ১২তম মিনিটে টানি ওলুওয়াসেয়ির শক্তিশালী শটও রুখে দেন তিনি। প্রথমার্ধজুড়ে কানাডাই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল।
২২তম মিনিটে মরক্কোর জন্য আসে বড় ধাক্কা। দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তারকা ইসমাইল সাইবারি চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। তাঁর পরিবর্তে নামেন সুফিয়ান রাহিমি। হাইড্রেশন বিরতির পর কিছুটা ছন্দে ফেরে মরক্কো এবং ৩০তম মিনিটে রাহিমির শট থেকে আসে দলের প্রথম অন-টার্গেট প্রচেষ্টা, যা সহজেই ধরেন কানাডার গোলরক্ষক ম্যাক্সিম ক্রেপো।
প্রথমার্ধের শেষদিকে উত্তেজনা বাড়ে আচরাফ হাকিমি ও রিচি লারিয়ার সংঘর্ষে। দুজনকেই হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। পরে জনাথন ডেভিড, আজেদ্দিন উনাহি এবং বিলাল এল খান্নুসও হলুদ কার্ড পান। অতিরিক্ত ছয় মিনিটেও গোল না হওয়ায় ০-০ সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পর যেন নতুন এক মরক্কোকে দেখা যায়। ৫০তম মিনিটে অনুশীলনে সাজানো ফ্রি-কিক থেকে এগিয়ে যায় তারা। আচরাফ হাকিমির ছোট পাস থেকে বক্সের বাইরে বল পেয়ে নিচু শটে জালে বল জড়ান আজেদ্দিন উনাহি। কানাডার একাধিক ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে যাওয়া সেই শটে গোলরক্ষক ক্রেপোর কিছুই করার ছিল না।
গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে আক্রমণে ওঠে কানাডা। তবে বুনুর নেতৃত্বে মরক্কোর রক্ষণভাগ ছিল দুর্ভেদ্য। উল্টো পাল্টা আক্রমণে আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে আফ্রিকান দলটি। ৮২তম মিনিটে দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন উনাহি। দিয়াজের নিখুঁত পাস থেকে চমৎকার ফিনিশিংয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি।
৮৭তম মিনিটে হ্যাটট্রিকের সহজ সুযোগ নষ্ট করেন সুফিয়ান রাহিমি, তাঁর হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। তবে যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে আর ভুল করেননি এই বদলি ফরোয়ার্ড। মাঝমাঠ থেকে দ্রুত আক্রমণে দিয়াজের বাড়ানো পাস ধরে বাম দিক দিয়ে একক প্রচেষ্টায় এগিয়ে এসে নিচু শটে বল জালে পাঠিয়ে ৩-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
প্রথমার্ধে চরম চাপে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে কৌশলগত পরিবর্তন, কার্যকর পাল্টা আক্রমণ ও দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ের সুবাদে সহজ জয় তুলে নেয় মরক্কো। জোড়া গোল করে ম্যাচসেরা পারফরম্যান্স উপহার দেন আজেদ্দিন উনাহি, আর বদলি হিসেবে নেমে একটি গোল করে জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন সুফিয়ান রাহিমি। এই জয়ের মাধ্যমে মরক্কো শুধু কোয়ার্টার ফাইনালেই উঠেনি, বরং আবারও প্রমাণ করেছে যে বড় মঞ্চে তাদের লড়াই করার মানসিকতা ও সামর্থ্য দুই-ই রয়েছে।