সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬

নাটকীয় জয়ে ইতিহাস গড়ে শেষ ষোলোয় কানাডা, বিদায় নিল দক্ষিণ আফ্রিকা


২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচেই দেখা গেল চরম উত্তেজনা। লস অ্যাঞ্জেলেসে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১–০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে সহ-আয়োজক কানাডা। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে (৯১তম মিনিটে) স্টিভেন ইউস্টাকিওর করা একমাত্র গোলটি কানাডিয়ানদের জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ যাত্রার অবসান ঘটায়।

২৯ জুন ২০২৬, ৭:৩৫ পূর্বাহ্ণ 

নাটকীয় জয়ে ইতিহাস গড়ে শেষ ষোলোয় কানাডা, বিদায় নিল দক্ষিণ আফ্রিকা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

তীব্র উত্তেজনা আর জমাট লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব। নকআউটের প্রথম ম্যাচেই নাটকীয় জয় তুলে নিয়ে শেষ ১৬ (রাউন্ড অব সিক্সটিন) নিশ্চিত করেছে টুর্নামেন্টের অন্যতম সহ-আয়োজক দেশ কানাডা। লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে তারা ১–০ গোলে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে (৯১তম মিনিটে) স্টিভেন ইউস্টাকিওর করা গোলেই উল্লাসে মাতে কানাডা। চলতি বিশ্বকাপে এটিই ইউস্টাকিওর প্রথম গোল।

পুরো ম্যাচজুড়েই দুই দল সমানে সমানে লড়াই উপহার দেয়। তবে প্রথমার্ধে কোনো দলই জালের দেখা পায়নি। বিরতির ঠিক আগে ম্যাচের সবচেয়ে বড় বিতর্কের সৃষ্টি হয়, যখন কানাডা একটি পেনাল্টির জোরালো দাবি তোলে। কিন্তু মাঠের রেফারি এবং পরে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) সেই দাবি নাকচ করে দেন। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে মাঠ ছাড়ার সময় রেফারির দিকে তেড়ে যেতে দেখা যায় কানাডার কোচ জেসি মার্শকে।

ম্যাচের প্রথমার্ধে বলের দখলের দিক থেকে এগিয়ে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথম 'ডিহাইড্রেশন ব্রেক' পর্যন্ত ম্যাচের ৬৫ শতাংশ বল ছিল আফ্রিকান দলটির পায়ে। তবে বলের দখল কম থাকলেও আক্রমণে বেশি কার্যকর ও বিপজ্জনক ছিল কানাডা। ২২তম মিনিটে ডেরেক কর্নেলিউসের একটি চমৎকার হেড সরাসরি দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামসের গ্লাভসে জমা হলে নিশ্চিত সুযোগ হাতছাড়া হয় কানাডার।

৪৪তম মিনিটে আবারও গোলবঞ্চিত হয় সহ-আয়োজকরা। ময়জে বোমবিতোর হেডের সময় দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক গোললাইন ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন। তবে একদম গোললাইনের ভেতর থেকে অব্রে মদিবা অবিশ্বাস্যভাবে বল ক্লিয়ার করে দলকে রক্ষা করেন। একই আক্রমণের ফিরতি বল থেকে কানাডার আরেকটি জোরালো শটও চমৎকারভাবে প্রতিহত করেন আফ্রিকান গোলরক্ষক।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধারা বজায় রাখে কানাডা। ৬৫তম মিনিটে আবারও দক্ষিণ আফ্রিকার ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান গোলরক্ষক উইলিয়ামস। জোনাথন ডেভিডের একটি বুলেট গতির শট তিনি পা বাড়িয়ে দুর্দান্তভাবে রুখে দেন। এরপর ফিরতি বল থেকেও গোল করতে দেননি ডিফেন্ডার এমবোকাজি।

ম্যাচ যখন একদম গোলশূন্য ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল এবং সবাই অতিরিক্ত সময়ের মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে স্টিভেন ইউস্টাকিও গোল করে পুরো স্টেডিয়ামকে স্তব্ধ ও আনন্দিত করে তোলেন। আর এই এক গোলের জয়েই দক্ষিণ আফ্রিকাকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল কানাডা।

অন্যদিকে, হারলেও এই বিশ্বকাপ দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য ছিল ঐতিহাসিক। এর আগে তিনবার বিশ্বকাপে অংশ নিলেও কখনো গ্রুপ পর্বের বাধা পার হতে পারেনি তারা। এবারই প্রথম নকআউট পর্বে পা রেখে ইতিহাস গড়েছিল দলটি। তবে প্রথম বাধাতেই কানাডার কাছে হেরে শেষ হলো তাদের এবারের বিশ্বকাপ মিশন।