মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬

সালমান শাহের লাশ উত্তোলনের আদেশ বহাল: আদালতের আদেশ নিয়ে বিভ্রান্তিতে বাদীপক্ষের ক্ষোভ


চিত্রনায়ক সালমান শাহের লাশ কবর থেকে উত্তোলনের পূর্ববর্তী আদেশ বহাল রেখেছে ঢাকার একটি আদালত। মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লাশ উত্তোলনের অনুমতি বাতিল চেয়ে বাদীপক্ষের করা আবেদনটি মঞ্জুর না করে কেবল নথিভুক্ত করার আদেশ দেওয়া হয়। তবে আদালতের এই আদেশ নিয়ে শুরুতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম এবং তার আইনজীবী।

২৩ জুন ২০২৬, ৫:২৭ অপরাহ্ণ 

সালমান শাহের লাশ উত্তোলনের আদেশ বহাল: আদালতের আদেশ নিয়ে বিভ্রান্তিতে বাদীপক্ষের ক্ষোভ
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

চিত্রনায়ক সালমান শাহের লাশ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি বাতিল করেননি ঢাকার একটি আদালত। বরং এ সংক্রান্ত বাদীপক্ষের আবেদনটি নথিভুক্ত করার আদেশ দিয়েছেন। ফলে লাশ উত্তোলনের আগের আদেশটিই বহাল রয়েছে। তবে আদালতে প্রথমে এই আদেশ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম ও তার আইনজীবী।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে সালমান শাহের লাশ উত্তোলনের অনুমতি বাতিল চেয়ে আবেদন করেন বাদীপক্ষ। আদালতের আদেশ ঘোষণার পর প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল যে আবেদনটি মঞ্জুর হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে জানা যায়, আদালত আবেদনটি কেবল নথিভুক্ত করেছেন।

রমনা থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই শাহ আলম এই বিষয়ে বলেন, "আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করার আদেশ দিয়েছেন। তবে আদেশ বুঝতে ভুল হওয়ায় প্রথমে সেটিকে আবেদন মঞ্জুর হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল।" তদন্তাধীন মামলায় বাদীপক্ষের এমন আবেদন আমলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে আদালতের এই বিভ্রান্তিকর ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবিদ হাসান বলেন, "প্রকাশ্য আদালতে বিচারকের সামনে আদেশ ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে সেটি নথিভুক্ত হয়েছে বলে জানানো হয়, যা আমার কাছে বোধগম্য নয়।" বিচার বিভাগের কার্যক্রমে আরও স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মামলার বাদী ও সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম দাবি করেন, তিনি নিজ কানে আদালতকে আবেদন গ্রহণ করতে শুনেছেন। পরবর্তীতে আদেশের ভিন্ন ব্যাখ্যা পাওয়ায় তিনি গভীর বিস্ময় প্রকাশ করেন।

বাদীপক্ষের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, প্রায় তিন দশক আগে দাফন হওয়া লাশ থেকে বর্তমানে কোনো কার্যকর দেহাবশেষ পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। ১৯৯৭ সালে একবার লাশ উত্তোলনের সময়ও তা অতিমাত্রায় পচনশীল অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। এছাড়া বারবার লাশ উত্তোলন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে এবং এর ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৪ মে সিআইডির আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত সালমান শাহের লাশ উত্তোলনের অনুমতি দেন। আদালত একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং পুনরায় ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় করা অপমৃত্যুর মামলাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন আদালত। পরে তার মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে এই হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সালমান শাহের সাবেক স্ত্রী সামীরা হক এবং খলনায়ক ডনসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে রহস্যজনক অবস্থায় চিত্রনায়ক সালমান শাহের লাশ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ তিন দশক ধরে আলোচিত এই মৃত্যুর ঘটনায় একাধিকবার তদন্ত হলেও এখনো এর চূড়ান্ত রহস্যের সমাধান হয়নি।