শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬

কুনহার জোড়া ও ভিনির ম্যাজিকে হাইতিকে উড়িয়ে গ্রুপের শীর্ষে ব্রাজিল


প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে ড্রয়ের ধাক্কা সামলে বিশ্বকাপে নিজেদের চেনা ছন্দে ফিরেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ফিলাডেলফিয়ার মাঠে হাইতিকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল। প্রথমার্ধেই মাতেউস কুনহার জোড়া গোল এবং ইনজুরি টাইমে ভিনিসিউস জুনিয়রের দর্শনীয় ফিনিশিংয়ে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যায়। এই জয়ে গোল ব্যবধানে মরক্কোকে টপকে গ্রুপ ‘সি’-র টেবিলের শীর্ষস্থান দখল করল সেলেসাওরা।

২০ জুন ২০২৬, ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ 

কুনহার জোড়া ও ভিনির ম্যাজিকে হাইতিকে উড়িয়ে গ্রুপের শীর্ষে ব্রাজিল
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট হারানোর হতাশা ভুলে দ্বিতীয় ম্যাচেই চেনা সাম্বা ছন্দে ফিরল ব্রাজিল। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার মাঠে হাইতিকে কোনো সুযোগই দেয়নি কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। কুনহা ও ভিনিসিউসের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ৩-০ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে সেলেসাওরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই হাইতিকে চেপে ধরে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ব্রাজিল। ম্যাচের ১৩ মিনিটে দানিলোর পাস ধরে বক্সে ঢুকে বুলেট গতির শটে বল জালে পাঠিয়েছিলেন রাফিনহা। তবে লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা তোলায় গোলটি বাতিল হয়। এর ৯ মিনিট পর আবারও গোলকিপারকে একা পেয়েও লক্ষ্যে শট রাখতে পারেননি এই বার্সেলোনা তারকা, যদিও এবারও তিনি অফসাইড পজিশনেই ছিলেন। ম্যাচের ৩৯ মিনিটে হালকা চোট পেয়ে রাফিনহা মাঠ ছাড়লে বদলি হিসেবে নামেন তরুণ ফরোয়ার্ড রায়ান।

ব্রাজিলকে অবশ্য গোলের জন্য বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। ২৩ মিনিটে ভিনিসিউস জুনিয়রের পাস থেকে বল পেয়ে হাইতির গোলমুখে ঠেলে দেন মাতেউস কুনহা। বলটি হাইতিয়ান ডিফেন্ডার ডেলক্রোয়ার গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে এবং পরে কুনহার শরীরে লেগে জালে জড়ালে ১-০ তে এগিয়ে যায় ব্রাজিল।

প্রথম গোলের পর আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে দেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ৩৬ মিনিটে আবারও হাইতির জাল কাঁপান কুনহা। এবারও অ্যাসিস্টের ভূমিকায় ছিলেন ভিনিসিউস। তার পাস থেকে ডি-বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে নিজের জোড়া গোল পূরণ করেন এই স্ট্রাইকার।

প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে দেখা যায় ব্রাজিলিয়ান সাম্বার আসল প্রদর্শনী। মাঝমাঠ থেকে লুকাস পাকুয়েতা হাইতির ডিফেন্সের ওপর দিয়ে বল ভাসিয়ে দেন ডি-বক্সে। সেখানে ওঁৎ পেতে থাকা ভিনিসিউস জুনিয়র নিখুঁত নিয়ন্ত্রণে হাইতিয়ান গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান। চলতি বিশ্বকাপে এটি রিয়াল মাদ্রিদ তারকার দ্বিতীয় গোল। ভিনি-কুনহাদের এই ত্রিমুখী আক্রমণে প্রথমার্ধেই ৩-০ ব্যবধানে ম্যাচের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় ব্রাজিল।

তিন গোলে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্থের শুরুতেই ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে হাইতি। উইলসন ইসিদর ও ডোমিনিক সিমনকে মাঠে নামিয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল শুরু করে তারা। ৪৮ মিনিটে দানিলোর এক ভুলের সুযোগ নিয়ে ইসিদর জোরালো শট নিলেও তা ব্রাজিলের ডিফেন্সে ব্লক হয়। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে জোড়া গোল করা কুনহা ও পাকুয়েতাকে তুলে নিয়ে এন্ড্রিক এবং গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে মাঠে নামান আনচেলত্তি। ৭৮ মিনিটে এন্ড্রিক বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। ম্যাচের শেষ দিকে হাইতি বেশ কিছু ক্রস বাড়িয়ে ব্রাজিলের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখলেও জালের দেখা পায়নি। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের দাপুটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আনচেলত্তির দল।

আজকের ম্যাচসহ আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখন পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল ও হাইতি, যার সবকটিতেই জিতেছে সেলেসাওরা। দুই দলের এই চারবারের দেখায় হাইতির জালে ব্রাজিল গোল উৎসব করেছে মোট ২০ বার, বিপরীতে হজম করেছে কেবল একটি গোল। এর আগে ১৯৭৪ ও ২০০৪ সালের দুটি প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিল জিতেছিল যথাক্রমে ৪-০ ও Safe ৬-০ গোলে। আর সর্বশেষ ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকায় ফিলিপে কৌতিনহোর হ্যাটট্রিকে ৭-১ গোলের জয় পেয়েছিল তারা। ঐতিহাসিক সেই জয়ের মতো আজকের জয়টিও এল যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই।