শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬

সাইবারির রেকর্ডগড়া দ্রুততম গোলে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে নকআউটের দুয়ারে মরক্কো


চলতি ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কোর জয়রথ ছুটছেই। গ্রুপ পর্বের প্রথম রাউন্ডে ইউরোপীয় বাধা টপকাতে না পারার যে গেরো আফ্রিকান দলগুলোর সামনে ছিল, তা দারুণভাবে ভাঙল মরক্কো। তরুণ স্ট্রাইকার ইসমাইল সাইবারির রেকর্ডগড়া দ্রুততম গোলের ওপর ভর করে স্কটল্যান্ডকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে আটলান্টাস লায়নরা। এই জয়ে গ্রুপ ‘সি’ থেকে দলটির শেষ ৩২ তথা নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করার পথ অনেকটাই সুগম হলো।

২০ জুন ২০২৬, ৮:৪৭ পূর্বাহ্ণ 

সাইবারির রেকর্ডগড়া দ্রুততম গোলে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে নকআউটের দুয়ারে মরক্কো
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

বিশ্বকাপের চলতি আসরে আফ্রিকার দলগুলো নান্দনিক ফুটবল উপহার দিয়ে চমক দেখালেও প্রথম রাউন্ডে ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট তুলতে পারেনি। তবে দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে এসে সেই আক্ষেপ দূর করল কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো। শক্তিশালী স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ গোলের দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে তারা।

শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হয়। ম্যাচের রোমাঞ্চ ছড়াতে একদমই সময় নেয়নি মরক্কো। রেফারির শুরুর বাঁশি বাজার ঠিক ৭১ সেকেন্ডের মাথায় (খেলার দ্বিতীয় মিনিটে) স্কটিশ রক্ষণভাগকে স্তব্ধ করে দেন মরক্কোর তরুণ স্ট্রাইকার ইসমাইল সাইবারি। ব্রাহিম দিয়াজের বাড়িয়ে দেওয়া দারুণ এক বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে স্কটল্যান্ডের জাল কাঁপান তিনি। চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত এটিই সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে হওয়া গোল এবং মরক্কোর বিশ্বকাপ ইতিহাসেও দ্রুততম গোলের রেকর্ড।

শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার পর পুরো ম্যাচ জুড়েই দাপট দেখিয়েছে আশরাফ হাকিমিরা। ম্যাচে বলের দখল (৫৪%) ও আক্রমণ- উভয় ক্ষেত্রেই এগিয়ে ছিল মরক্কো। পুরো ম্যাচে আরও বেশ কিছু নিশ্চিত গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল তারা। বিশেষ করে প্রথমার্ধে এবং বিরতির পর সাইবারির একটি শট বারে লেগে ফিরে আসলে ব্যবধান বাড়াতে পারেনি দলটি। গোলের লক্ষ্যে নেওয়া তিনটি অন-টার্গেট শট থেকে গোল ব্যবধান আরও বড় হতে পারত, তবে শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের ন্যূনতম কিন্তু মূল্যবান জয় নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় আটলান্টাস লায়নদের।

অন্য দিকে ম্যাচে খুব একটা আলো ছড়াতে পারেনি স্কটল্যান্ড। মরক্কোর জমাট রক্ষণভেদে তারা বলার মতো ছয়টি আক্রমণ চালালেও, মরক্কোর অতন্দ্র প্রহরী ও অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনোকে বড় কোনো পরীক্ষায় ফেলার জন্য তা যথেষ্ট ছিল না।

এই গুরুত্বপূর্ণ জয়ের ফলে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ 'সি'-র শীর্ষস্থানে উঠে এলো মরক্কো। সেই সাথে তাদের নকআউট পর্বে যাওয়ার পথ অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে গেল। গ্রুপের শেষ ম্যাচে আফ্রিকার এই পরাশক্তি দলটির প্রতিপক্ষ হাইতি। শক্তি, সামর্থ্য এবং বর্তমান ফর্মের বিচারে ব্রাহিম দিয়াজ ও আয়ূব বৌয়াদ্দিদের হাইতির বিপক্ষে অনায়াস জয় পাওয়া উচিত। শেষ ম্যাচে জয় কিংবা একটি ড্র পেলেই শেষ ৩২ নিশ্চিত করে নকআউট পর্বে পা রাখবে মরক্কো।