২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ৬৮ বছর পর একই দিনে সব ম্যাচ ড্র
১৮ জুন ২০২৬, ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই পরাশক্তির আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ডালাসের মাঠ। ম্যাচের ৯ম মিনিটেই পেনাল্টি পেয়ে যায় ইংল্যান্ড। ডেক্লান রাইসের নেওয়া আউটসুইং কর্নার ক্লিয়ার করতে গিয়ে ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদ্রিচ বক্সের ভেতর ননি মাদুয়েকেকে পেটে আঘাত করে ফেলে দিলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান।
ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনের প্রথম পেনাল্টি শটটি ক্রোয়েশীয় গোলরক্ষক লিভাকোভিচ দারুণভাবে ঠেকিয়ে দিলেও নাটকের তখনও বাকি ছিল। কেইন শট নেওয়ার আগেই ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্ডার গভারদিওল বক্সে ঢুকে পড়েন এবং লিভাকোভিচও গোললাইন ছেড়ে সামনে এগিয়ে আসেন। ফলে রেফারি পুনরায় পেনাল্টি নেওয়ার নির্দেশ দেন। দ্বিতীয় সুযোগে আর ভুল করেননি কেইন; জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে ইংল্যান্ডকে ১-০ তে এগিয়ে নেন।
৩১ মিনিটে জুড বেলিংহ্যাম গোললাইনের সামনে বল ছোঁয়াতে ব্যর্থ হলে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ হারায় ইংল্যান্ড। এর পাঁচ মিনিট পরই (৩৬ মিনিটে) সমতায় ফেরে ক্রোয়েশিয়া। সুসিচের পাস থেকে দারুণ এক গতিময় শটে মার্টিন বাতুরিনা গোল করে ম্যাচ ১-১ সমতায় আনেন। জর্ডান পিকফোর্ড হাত ছোঁয়ালেও শটের গতি রুখতে পারেননি।
ম্যাচের ৪২ মিনিটে আবার ইংল্যান্ডকে এগিয়ে নেন হ্যারি কেইন। রাইসের কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে দুর্দান্ত হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এই স্ট্রাইকার (২-১)। তবে ইংল্যান্ডের ডিফেন্সের ভুলে এই লিড বেশিক্ষণ টেকেনি। প্রথমার্ধের শেষ দিকে পাসালিচ ও পেরিসিচের যৌথ প্রচেষ্টা থেকে বল পেয়ে ঠান্ডা মাথায় ভলিতে গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে ২-২ সমতায় ফেরান পিটার মুসা।
বিরতি থেকে ফিরেই আক্রমণাত্মক রূপ ধারণ করে ইংল্যান্ড। ৪৭ মিনিটে অ্যান্ডারসনের পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা জুড বেলিংহ্যাম। নিখুঁত এক নিচু শটে লিভাকোভিচকে পরাস্ত করে ইংল্যান্ডকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। এর পরের মিনিটেই বেলিংহ্যামের ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া আরেকটি জোরালো শট কোনোমতে রক্ষা করেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক।
ম্যাচের বাকি সময় ক্রোয়েশিয়া রক্ষণাত্মক খেলে ইংল্যান্ডকে আটকে রাখার চেষ্টা করলেও ম্যাচের ৮৫ মিনিটে ব্যবধান ৪-২ করে ফেলেন বদলি খেলোয়াড় মার্কাস রাশফোর্ড। বুকায়ো সাকার পাস থেকে বল পেয়ে ঠান্ডা মাথায় ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান রাশফোর্ড। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ৪-২ ব্যবধানের এক দুর্দান্ত ও স্মরণীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড।