নেতানিয়াহুকে যুদ্ধ থামানোর আহ্বান ট্রাম্পের
১৫ জুন ২০২৬, ৯:১০ পূর্বাহ্ণ
আমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকলেও এতে প্রাকৃতিক শর্করা ও ক্যালোরির পরিমাণও কিছুটা বেশি। আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি মাঝারি আকারের আমে সাধারণত ১২০ থেকে ১৫০ ক্যালোরি থাকে। এর মধ্যে প্রাকৃতিক চিনি বা সুক্রোজের পরিমাণ প্রায় ৪৫ গ্রাম। ফলে অতিরিক্ত পরিমাণে আম খেলে রক্তে যেমন শর্করার (চিনি) মাত্রা বাড়তে পারে, তেমনি তা ওজন বৃদ্ধির কারণও হতে পারে। তাই যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদের আম খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
পুষ্টিবিদরা জানান, আমে থাকা প্রাকৃতিক চিনি শরীরকে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়। তবে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করলে তা শরীরে চর্বি (ফ্যাট) হিসেবে জমা হয়। বিশেষ করে মূল খাবারের পর অতিরিক্ত আম খাওয়া কিংবা আম দিয়ে তৈরি মিল্কশেক, আইসক্রিম, কাস্টার্ড বা চিনিযুক্ত ডেজার্ট খেলে ওজন বাড়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
পরিমিত পরিমাণে আম খেলে ওজন বাড়ার কোনো ভয় নেই। উল্টো আমে থাকা ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ফাইবার এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখে এবং হজমপ্রক্রিয়া উন্নত করতে সাহায্য করে।
ফিটনেস কোচ নমন সোলাঙ্কি এই বিষয়ে বলেন, আম কখনোই ওজন কমানোর পথে বাধা নয়; বরং আপনি এটি কীভাবে খাচ্ছেন সেটাই আসল বিষয়। পাকা আম দুধে মিশিয়ে, অতিরিক্ত চিনি দিয়ে শেক বানিয়ে কিংবা চিনি সহযোগে আমপোড়ার শরবত খেলে ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু প্রতিদিনের ক্যালোরির হিসাব মেপে নিয়ম মেনে আম খেলে ওজন বাড়ার কোনো আশঙ্কাই থাকে না।
পুষ্টিবিদ ও ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ থাকতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে আম খাওয়ার সময় নিচের বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরি:
আস্ত ফল হিসেবে খান: আম জুস বা শেক বানিয়ে না খেয়ে সরাসরি ফল হিসেবে চিবিয়ে খাওয়া সবচেয়ে ভালো। এতে আমে থাকা ফাইবার বা আঁশ সরাসরি শরীরে যায়, যা হজমে সাহায্য করে।
পরিমাণ নির্ধারণ: স্বাস্থ্যসচেতন ব্যক্তিদের জন্য দিনে একটি মাঝারি আকারের আম বা এক থেকে দুই কাপ কাটা আম খাওয়াই যথেষ্ট।
খাওয়ার সঠিক সময়: ভরপেট দুপুরের বা রাতের খাবার খাওয়ার পরপরই আম না খেয়ে, সকালের নাশতায় কিংবা বিকেলের হালকা স্ন্যাক্স হিসেবে আম খাওয়া ভালো।
অতিরিক্ত চিনি পরিহার: আম এমনিতেই মিষ্টি ফল। তাই আমের সাথে আলাদা করে চিনি, দুধ বা ক্রিম যোগ করে খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।