নেতানিয়াহুকে যুদ্ধ থামানোর আহ্বান ট্রাম্পের
১৪ জুন ২০২৬, ৪:২৪ অপরাহ্ণ
মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদি উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি বহুল আলোচিত চুক্তি আজ রোববার সই হওয়ার জোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে এই সম্ভাবনার কথা সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, "চুক্তি সই হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি সব দেশের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে।" উল্লেখ্য, এই নৌপথটি দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান এই প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সীমিত করায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
এই ঐতিহাসিক চুক্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আশাবাদ ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চুক্তিটি চূড়ান্ত রূপ পেতে পারে এবং আগামী সপ্তাহ থেকেই উভয় দেশের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে পাকিস্তানের এই আশাবাদ এবং ট্রাম্পের ঘোষণার বিপরীতে কিছুটা ভিন্ন সুর শোনা গেছে তেহরানের কণ্ঠে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, চুক্তি সইয়ের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি এখনও নিশ্চিত নয়। ফলে চুক্তিটি আজই হচ্ছে কি না, তা নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
চুক্তির শর্তাবলী নিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের ইউরেনিয়াম মজুতের বিষয়টি নিয়েও বড় পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। পরিস্থিতি শান্ত হলে ওই পারমাণবিক উপাদানগুলো সংগ্রহ করে ধ্বংস করা হবে বলে তিনি জানান।
পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার জন্য অভিযুক্ত করে আসছে। তবে তেহরান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে যে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
এদিকে সম্ভাব্য চুক্তির রূপরেখা নিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, এই চুক্তির আওতায় আঞ্চলিক সংঘাত নিরসন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের ওপর আরোপিত কিছু আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেকোনো ধরনের অর্থনৈতিক বা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুবিধা পেতে হলে ইরানকে অবশ্যই চুক্তির শর্তসমূহ পুরোপুরি পূরণ করতে হবে।