আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম: অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনে লিটারে বাড়ল ৫ টাকা,
২ জুন ২০২৬, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ
বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম সিলিন্ডারপ্রতি ৫৫ টাকা কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আজ মঙ্গলবার বিইআরসি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জুন মাসের জন্য নতুন এই মূল্য ঘোষণা করা হয়।
বিইআরসির নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, বেসরকারি খাতের এলপিজির ভোক্তাপর্যায়ে মূল্য প্রতি কেজি ১৫৭ টাকা ৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই হিসেবে বাজারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা। এর আগে গত মে মাসে এই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৯৪০ টাকা এবং ওই মাসে এলপিজির মূল্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল।
১২ কেজির সিলিন্ডারের পাশাপাশি কমেছে গাড়িতে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও। বিইআরসি জানিয়েছে, অটোগ্যাসের দাম লিটারপ্রতি ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমিয়ে ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে প্রতি লিটারে দাম কমেছে ২ টাকা ৫৭ পয়সা।
কমিশন তাদের বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, জুন মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি আরামকোর ঘোষিত প্রোপেন ও বিউটেনের কনট্রাক্ট প্রাইস (সিপি), এলপিজি আমদানির ব্যয়, জাহাজভাড়া, ট্রেডার প্রিমিয়াম এবং ডলারের বর্তমান বিনিময় হার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবেচনা করে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। চলতি মাসে প্রোপেনের সিপি প্রতি মেট্রিক টন ৭৬০ ডলার এবং বিউটেনের সিপি ৮২০ ডলার নির্ধারিত হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে গড় সিপি দাঁড়িয়েছে ৭৯৯ ডলার।
উল্লেখ্য, এর আগে গত এপ্রিল মাসে দেশের বাজারে এলপিজির দামে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছিলেন ভোক্তারা। গত ২ এপ্রিল ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম একলাফে ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৭ টাকা করা হয়। এর মাত্র ১৭ দিনের ব্যবধানে, অর্থাৎ ১৯ এপ্রিল আরও ২১২ টাকা বাড়িয়ে তা ১ হাজার ৯৪০ টাকায় উন্নীত করা হয়। সব মিলিয়ে এপ্রিল মাসে দুই দফায় মোট ৫৯৯ টাকা বাড়ানো হয়েছিল এলপিজির দাম। মে মাসে সেই চড়া দাম অপরিবর্তিত রাখা হলেও, জুনে এসে দাম কিছুটা কমায় স্বস্তি ফিরছে জনজীবনে।
বেসরকারি খাতের গ্যাসের দাম কমলেও সরকারি খাতের এলপিজির দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বিইআরসি জানিয়েছে, সরকারি এলপিজির ১২ দশমিক ৫ কেজি সিলিন্ডারের মূল্য আগের মতোই ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সা বহাল থাকবে।
নতুন দাম ঘোষণার পাশাপাশি কমিশন বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর বার্তা দিয়েছে। বিইআরসি স্পষ্ট সতর্ক করে বলেছে, সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে কোনো পর্যায়েই এলপিজি বা অটোগ্যাস বিক্রি করা যাবে না। এই নির্দেশ অমান্য করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।