রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬

‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস’- অডিও ভাইরালের পর কলমাকান্দার ওসি প্রত্যাহার


নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাশেমের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই অডিওতে তাকে ‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস’ (এক ধরনের ব্যবসা) বলতে শোনা যায়, যা নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আজ রোববার (৩১ মে) তাকে প্রত্যাহারের পাশাপাশি ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ।
‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস’- অডিও ভাইরালের পর কলমাকান্দার ওসি প্রত্যাহার
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাশেমের একটি বিতর্কিত অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

শনিবার (৩০ মে) রাত ৮টার পর প্রায় ৪ মিনিট ৪ সেকেন্ডের একটি অডিও ক্লিপ ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অডিওতে থানার পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে এক ব্যক্তিকে বক্তব্য দিতে শোনা যায়, যাকে স্থানীয়রা ও জেলা পুলিশ ওসি আবুল হাশেম বলে দাবি করছেন।

ভাইরাল হওয়া অডিওটিতে ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, “পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস। আমরা কেউ কাউকে ঠকাবো না। সবাই মিলেমিশে থাকব। ধরেন, দুই হাজার টাকা আমি খরচ করলাম, এই টাকা তো আমার বাড়ির টাকা না, বেতনের টাকাও না। আপনারা একটা অভিযোগ দিলেন এক হাজার টাকা, আরেকটা খারিজ কইরা ফেললেন এক হাজার টাকা, ওইটা দিয়েই কিন্তু আমি পাড়ি দিয়া দিলাম। তাইলে আমার তো রিস্ক নাই, নো টেনশন, খুব রিলাক্সে আছি।”

বক্তব্যের আরেক অংশে তিনি বলেন, “পুলিশের যে চাকরিটা, এটা ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস। সবাই কিন্তু এই বিজনেসের সঙ্গে জড়িত না। আমরা কিন্তু একজন আরেকজনরে সেইফে রাখছি। সবাইকে সমন্বয় করে চলতে হবে। ওসির মাথায় কিন্তু কাঁঠাল ভেঙে খাইতে পারবেন না। সর্বোপরি আমি আপনাদের ঠকাবো না। আমি কি বাড়ি থেকে টাকা এনে খরচ করতাছি, না জমি বেইচ্যা আইন্যা আপনাদের চালাইতেছি।”

অধস্তন পুলিশ সদস্যদের পাওনা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে অডিওতে আরও বলা হয়, “সবাই যেন ভালো থাকতে পারি। যার যেই अधिकार, সে যেন সেটা পায়। আমার যারা কনস্টেবল আছে, তারা যে যেটা পাওয়ার সেটা পায়, তারা যেন বঞ্চিত না হয়। হক মারা আমি পছন্দ করি না। কারণ, যারা হক মারে, রাসুল তারে সাফায়েত করবে না। এটাই কিন্তু ফাইনাল কথা। কেউ চালাকি করবেন না। বর্তমান মিডিয়া অনেক এগিয়ে আছে।”

তবে ভাইরাল হওয়া এই অডিও রেকর্ডটি নিজের বলে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ওসি মো. আবুল হাশেম। মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কীভাবে এই বক্তব্য এসেছে, আমি তো জানি না। এ রকম কথা তো আমি কোথাও বলিনি। এখন আপনি যেমন জানছেন, আমিও তেমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পারলাম। আমার তো মনে হয় না, এমন কথা আমি কোথাও বলেছি।”

এদিকে অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম জানান, অডিওটি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে ওসি আবুল হাশেমকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনাটি তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।