রামিসা হত্যার ফরেনসিক রিপোর্ট পুলিশের হাতে
২৬ মে ২০২৬, ৩:২৮ অপরাহ্ণ
বৈরি আবহাওয়ার কারণে রাজধানীর সদরঘাট নৌবন্দর থেকে দক্ষিণাঞ্চলের সব ধরনের যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।
মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে বিআইডব্লিউটিএ জানায়, নদীবন্দরে ২ নম্বর সতর্কসংকেত জারি থাকায় যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দুপুর ১২টা থেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কোনো নৌযান ঘাট ছেড়ে যাবে না।
এদিকে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির মধ্যে হঠাৎ এই ঘোষণায় সদরঘাটে দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীদের মধ্যে চরম দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে আগে থেকেই অনেকে টিকিট কেটে ঘাটে এসে জানতে পারেন যে লঞ্চ ছাড়বে না। ফলে বিকল্প উপায়ে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন কেউ কেউ, আবার অনেকে বাধ্য হয়ে ঘাটেই অপেক্ষা করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দুপুর ১২টার দিকে সদরঘাট এলাকায় ঝড়ো বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইতে শুরু করে, যার ফলে নদীতে ঢেউয়ের উচ্চতাও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল। নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় টার্মিনালে সারি সারি লঞ্চ নোঙর করে রাখা হয়েছে। এমনকি অনেক লঞ্চে যাত্রী বোঝাই থাকলেও ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
লঞ্চ টার্মিনালের ট্রাফিক ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ অফিসের বার্থিং সারেং মো. মামুন জানান, আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকা থেকে ৩২টি লঞ্চ ছেড়ে গেছে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় এসেছে ৪৫টি লঞ্চ। এর আগে গতকাল রাতে দেশের ৩৭টি রুটে ৯১টিরও বেশি লঞ্চ ছেড়ে গিয়েছিল।
বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবহাওয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যাত্রীদের অপ্রয়োজনে ঘাটে না আসারও পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, আগামী ২৮ মে দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হবে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকারের নির্বাহী আদেশে ছুটি বাড়ানোর ফলে সরকারি চাকরিজীবীরা ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা ছুটি কাটাচ্ছেন। ছুটির এই সময়ে আকস্মিক লঞ্চ চলাচল বন্ধ হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের ঘরমুখো সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েছেন।