রাষ্ট্র পরিচালনায় চরম ব্যর্থতার অভিযোগ এনসিপির, ‘নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে জনগণ’
৫ মে ২০২৬, ১০:০০ পূর্বাহ্ণ
দেশে আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির একটি প্রস্তাব গত সোমবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-এ পাঠিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
প্রস্তাব অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ দেড় টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। অন্যদিকে খুচরা পর্যায়ে এই বৃদ্ধি সর্বোচ্চ ১ টাকা ৩৮ পয়সা পর্যন্ত হতে পারে। তবে গ্রাহকদের ব্যবহারের পরিমাণ অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হারে এই সমন্বয় করা হবে।
বিদ্যুৎ বিভাগের পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, মাসে ৭০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারী বা লাইফলাইন গ্রাহকদের এই মূল্যবৃদ্ধির আওতার বাইরে রাখা হবে। ৭৬ থেকে ৪০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে ইউনিটপ্রতি প্রায় ৭০ পয়সা এবং ৪০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৩৮ পয়সা পর্যন্ত বাড়তে পারে।
বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোই কমিশনের কাছে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব জমা দেয়। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো প্রস্তাব পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তারা বিদ্যুৎ বিভাগের সুপারিশ অনুযায়ী আবেদন প্রস্তুত করছে, যা চলতি সপ্তাহেই বিইআরসিতে জমা পড়তে পারে।
বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রস্তাব পাওয়া গেলে তা পর্যালোচনা করে গণশুনানির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পিডিবি চেয়ারম্যান রেজাউল করিমও জানিয়েছেন, প্রস্তাব চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জুনের শুরুতেই নতুন মূল্যহার কার্যকর হতে পারে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে বড় ব্যবধান এবং ভর্তুকির চাপ কমাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত এলএনজি, কয়লা ও তেলের অধিকাংশই আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়ছে উৎপাদন খরচে।
বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড় খরচ গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা দামের তুলনায় প্রায় ৫ টাকা ৫০ পয়সা বেশি। এই ঘাটতির কারণে ভর্তুকির চাপ বেড়েই চলেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পিডিবির সম্ভাব্য ঘাটতি প্রায় ৫৬ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা হতে পারে। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে আরও প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ভর্তুকির প্রয়োজন হতে পারে।
দেশে বর্তমানে প্রায় ৪ কোটি ৯৭ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৭ শতাংশ গ্রাহক সরাসরি মূল্যবৃদ্ধির আওতায় পড়তে পারেন, আর ৬৩ শতাংশ স্বল্প ব্যবহারকারী তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত থাকতে পারেন।
তবে, শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে বিদ্যুতের দাম বাড়লে এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত পণ্য ও সেবার দামে পড়বে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।