সোমবার, ৪ মে, ২০২৬

থালাপতি বিজয়ের জয়ে ভাঙতে পারে পাঁচ দশকের রাজনৈতিক ধারা


ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের আভাস দেখা যাচ্ছে। অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর-এর দল তামিলাগা ভেট্রি কাজগম বিধানসভা নির্বাচনে এগিয়ে থেকে সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে। এতে প্রায় ৪৯ বছরের পুরোনো রাজনৈতিক ধারার অবসানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
থালাপতি বিজয়ের জয়ে ভাঙতে পারে পাঁচ দশকের রাজনৈতিক ধারা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের চলমান বিধানসভা নির্বাচনে নতুন এক ইতিহাস গড়ার পথে এগোচ্ছেন জনপ্রিয় অভিনেতা-রাজনীতিক জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর। তার প্রতিষ্ঠিত দল তামিলাগা ভেট্রি কাজগম (টিভিকে) প্রাথমিক ফলাফলে ১০৮টি আসনে এগিয়ে রয়েছে, যেখানে ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছেন তিনি।

বিজয় চূড়ান্তভাবে জয়ী হলে এটি হবে এক ঐতিহাসিক ঘটনা। কারণ, ১৯৭৭ সালের পর এই প্রথম কোনও চলচ্চিত্র তারকা সরাসরি জনগণের ভোটে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ওই বছর কিংবদন্তি অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ এম.জি. রামচন্দ্রন ক্ষমতায় আসেন এবং দীর্ঘ সময় রাজ্য পরিচালনা করেন। পরবর্তীতে জয়ললিতা মুখ্যমন্ত্রী হলেও তিনি নিজস্ব দল গড়ে নয়, বরং এম.জি. রামচন্দ্রন-এর প্রতিষ্ঠিত অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজগম-এর নেতৃত্বে ক্ষমতায় আসেন।

বিজয়ের রাজনৈতিক উত্থান হঠাৎ করে হয়নি। ২০০৯ সালে তিনি তার ভক্তদের সংগঠনকে ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কম’ হিসেবে সংগঠিত করেন, যা শুরুতে সামাজিক ও সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করলেও ধীরে ধীরে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্কে পরিণত হয়।

২০১১ সালে তিনি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজগম-নেতৃত্বাধীন জোটকে সমর্থন দেন। এরপর থেকে তার রাজনৈতিক বক্তব্য আরও স্পষ্ট হতে থাকে। বেকারত্ব, শিক্ষা, দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার মতো বিষয় সামনে এনে তিনি বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেন।

২০২১ সালের স্থানীয় নির্বাচনে তার সংগঠনের প্রার্থীদের সাফল্য প্রমাণ করে যে তার জনপ্রিয়তা বাস্তব ভোটে রূপ নিতে শুরু করেছে। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তামিলাগা ভেট্রি কাজগম দল গঠন করেন এবং জোটবিহীনভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি প্রায় তিন দশকের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার থেকেও সরে এসে পুরোপুরি রাজনীতিতে মনোনিবেশ করেন।

তবে পথটি চ্যালেঞ্জহীন ছিল না। ২০২৫ সালে করুরে একটি অনুষ্ঠানে পদদলিত হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় তার নেতৃত্ব প্রশ্নের মুখে পড়ে। তবে তিনি প্রকাশ্যে দায় স্বীকার করে পরিস্থিতি সামাল দেন, যা তার রাজনৈতিক দায়িত্ববোধের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বর্তমানে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজগম, অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজগম এবং বিজয়ের টিভিকে- এই তিন শক্তির মধ্যে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের দ্বিমুখী রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে নতুন সমীকরণ গড়ে উঠছে।

সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের এই নির্বাচন তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে। বিজয় সরকার গঠন করতে পারলে তিনি প্রায় পাঁচ দশক পর প্রথম অভিনেতা-রাজনীতিবিদ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসবেন। আর ফল যাই হোক, তার উত্থান ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে-তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন শক্তির আবির্ভাব এখন বাস্তবতা।