বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

‘খেলাপি ঋণ ৩০ শতাংশের বেশি, সামনে দুই বছর কঠিন’-অর্থমন্ত্রীর সতর্কবার্তা


দেশের অর্থনীতি বর্তমানে ‘লো লেভেল ইকুইলিব্রিয়াম’ বা স্থবির অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, খেলাপি ঋণ ৩০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সামনে কঠিন ও অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।

৩০ এপ্রিল ২০২৬, ৯:১৮ অপরাহ্ণ 

‘খেলাপি ঋণ ৩০ শতাংশের বেশি, সামনে দুই বছর কঠিন’-অর্থমন্ত্রীর সতর্কবার্তা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে ‘লো লেভেল ইকুইলিব্রিয়াম’ বা এক ধরনের স্থবির অবস্থায় পৌঁছেছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে খেলাপি ঋণের হার ৩০ শতাংশের বেশি। তার ভাষায়, কোনো দেশে এই হার ৩০ শতাংশ অতিক্রম করলে অর্থনীতির গতি প্রায় থেমে যাওয়ার অবস্থায় চলে যায়। তিনি তুলনা করে বলেন, ২০০৫ সালে এই হার ছিল ১৩ শতাংশ।

তিনি আরও বলেন, সামনে অন্তত দুই বছর অর্থনীতির জন্য কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। এ সময় নানা ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যেগুলো জনপ্রিয় নাও হতে পারে। তবে সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে এসব কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।

বিরোধী দলের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, “আমাদের নেতৃত্ব ঠিক আছে, আমাদের ক্যাপ্টেন ঠিক আছে। তার ভিশন সঠিক এবং সততার জায়গা থেকে কাজ করছেন।”

ঋণ পুনঃতফসিলিকরণ প্রসঙ্গে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, এটি একটি স্বাভাবিক ও দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রক্রিয়া। এটি কোনো একটি দলের উদ্ভাবন নয়। তিনি দাবি করেন, গত ১৭ বছরে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক ব্যবসায়ী নানা বাধার মুখে পড়েছেন, অনেকের ঋণ অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও তা বিতরণ করা হয়নি।

অর্থমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, বিএনপির ব্যবসায়ীদের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং অনেক নেতাকে বাড়িতে থাকতে দেওয়া হয়নি বা কারাবন্দি থাকতে হয়েছে, যার ফলে তাদের ব্যবসা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব, তবে এর জন্য প্রয়োজন সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতা।