তীব্র গরমে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে: আক্রান্ত হলে কী করবেন?
২৬ এপ্রিল ২০২৬, ৮:৪৩ অপরাহ্ণ
রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় নিজ বাসা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ১১টার দিকে বাবার সঙ্গে কথা বলে নিজ কক্ষে যান মিমো। রোববার ভোরে ফজরের সময় দরজা বন্ধ দেখে পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বাড্ডা জোনের সহকারী কমিশনার আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনাস্থলের আলামত ও পরিবারের বয়ানের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি আরও জানান, মিমোর কক্ষ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। এতে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তী এবং এক সহপাঠীর নাম উল্লেখ রয়েছে। চিরকুটে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথাও লেখা ছিল।
ঘটনার পর সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার আগের রাতে মিমো তার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন এবং কল হিস্ট্রি মুছে ফেলার বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় মিমোর বাবা বাড্ডা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে বিভাগের চেয়ারপারসন কাজী তামান্না হক জানান, মিমো ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তরের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বলেন, সকালে এ ঘটনার খবর পেয়ে সবাই স্তম্ভিত হয়ে পড়েছেন।
মিমোর মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ। বিভাগ থেকে দেওয়া শোকবার্তায় বলা হয়, মেধাবী ও প্রাণবন্ত এই শিক্ষার্থীর এমন অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনায় পুরো বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।