সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ২৫ হাজারের বেশি হজযাত্রী, মৃত্যু ২
২৬ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ
ম্যালেরিয়া দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ হিসেবে পরিচিত, যার সবচেয়ে বড় শিকার পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা। এতদিন পর্যন্ত নবজাতক ও খুব কম ওজনের শিশুদের জন্য আলাদা কোনো নিরাপদ ও নির্দিষ্ট ম্যালেরিয়া ওষুধ ছিল না। ফলে চিকিৎসকেরা বড়দের জন্য তৈরি ওষুধ সামঞ্জস্য করে ব্যবহার করতেন, যা ডোজ নির্ধারণে ভুল ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়াত।
এই প্রেক্ষাপটে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক অনুমোদনকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন এই ওষুধটি আর্টিমেথার ও লুমেফ্যান্ট্রিনের সমন্বয়ে তৈরি এবং বিশেষভাবে ৫ কেজির কম ওজনের শিশুদের জন্য নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শিশুদের চিকিৎসায় নির্ভুলতা ও নিরাপত্তা বাড়াবে এবং মৃত্যুহার কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা–এর তথ্য অনুযায়ী, ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক শিশু প্রাণ হারায়, যার প্রায় ৭০ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী। গর্ভাবস্থায় ম্যালেরিয়া সংক্রমণের কারণে প্রতি বছর প্রায় ১০ হাজার মায়ের মৃত্যু ঘটে। একই সঙ্গে প্রায় ২ লাখ মৃত শিশু জন্ম এবং প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার শিশু কম ওজন নিয়ে জন্মানোর ঘটনা ঘটে।
২০২৪ সালের পরিসংখ্যান আরও উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে। ওই বছরে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৮ কোটি ২০ লাখ মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয় এবং প্রাণ হারায় ৫ লাখের বেশি মানুষ। এর মধ্যে সাব-সাহারান আফ্রিকা অঞ্চলেই ঘটে মোট মৃত্যুর ৯০ শতাংশ, যা এই অঞ্চলের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আফ্রিকার ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকায় প্রতিবছর জন্ম নেওয়া প্রায় ৩ কোটি শিশুর জন্য এই নতুন ওষুধটি বড় সুযোগ তৈরি করবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা–এর অনুমোদনের ফলে বিভিন্ন দেশ এখন পূর্ণাঙ্গ ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ছাড়াই দ্রুত এই ওষুধ ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারবে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা সংশ্লিষ্ট সরকারের অনুমোদন নিয়ে ওষুধটি সংগ্রহ ও বিতরণ করতে পারবে।
সংস্থাটির মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস বলেন, “শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ম্যালেরিয়া অসংখ্য পরিবারকে শোকাহত করেছে। তবে এখন পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে।” তিনি আরও জানান, চলতি মাসের শুরুতেই ম্যালেরিয়া শনাক্তে তিনটি নতুন র্যাপিড টেস্ট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা দ্রুত ও সঠিক রোগ নির্ণয়ে সহায়ক হবে।
বিশেষ করে হর্ন অব আফ্রিকার দেশগুলোতে ভুল পরীক্ষার কারণে প্রায় ৮০ শতাংশ ম্যালেরিয়া শনাক্ত করা যাচ্ছিল না, যার ফলে চিকিৎসা বিলম্বিত হয়ে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছিল। নতুন পরীক্ষাগুলো সেই সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০০০ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী সমন্বিত উদ্যোগের ফলে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ম্যালেরিয়াজনিত মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। নতুন এই ওষুধ ও উন্নত শনাক্তকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: ডয়চে ভেলে