মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ২ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চাইলেন তারেক রহমান


বাংলাদেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এশিয়া জিরো এমিশন কমিউনিটি (এজেডইসি) প্লাসের ভার্চুয়াল সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।

১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ 

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ২ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চাইলেন তারেক রহমান
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৫ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত এশিয়া জিরো এমিশন কমিউনিটি (এজেডইসি) প্লাস-এর ভার্চুয়াল সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা চান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি দ্রুত পদক্ষেপ, ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা এবং দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি রাখে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করা এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই আহ্বানে বিশ্ব সম্প্রদায় দ্রুত ও ইতিবাচক সাড়া দেবে।

বিশ্বব্যাপী চলমান জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই সংকট দেশগুলোর পারস্পরিক নির্ভরতা ও দুর্বলতাকে স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে। এককভাবে কোনো দেশের পক্ষে এ ধরনের সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। তাই আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং সরবরাহব্যবস্থার বিঘ্ন মোকাবিলায় এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

তিনি আরও জানান, জ্বালানি সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বেশ কিছু স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি অফিস ও বাজারের সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করে জ্বালানি চাহিদা নিয়ন্ত্রণ, জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি আমদানি বৃদ্ধি, বিকল্প উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং রেশনিং ও খুচরা বিক্রয়ে সীমা নির্ধারণ। এছাড়া মজুতদারি ও অযাচিত কেনাকাটা ঠেকাতে ‘ফুয়েল অ্যাপ’-এর মতো প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা একসময় বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস ও জীবনমান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও এই সংকট সেই অর্জনকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একা এই সংকটে নেই, তাই একক প্রচেষ্টায় এর সমাধান সম্ভব নয়। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর সুরক্ষায় একটি সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

সম্মেলন আয়োজনের জন্য জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি-কে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। ভার্চুয়াল এই সম্মেলনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম-সহ জাপান, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও পূর্ব তিমুরের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা অংশ নেন।

সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্য দেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভবন থেকে ভার্চুয়ালি সম্মেলনে যুক্ত হন। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা এম হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।