বিশ্বজুড়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের স্বীকৃতি হিসেবে পরিচিত টাইম ম্যাগাজিন–এর প্রকাশিত ‘টাইম ১০০’ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন তারেক রহমান। বুধবার প্রকাশিত এ তালিকায় ‘লিডার’ বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করা হয় তাকে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিন নির্বাসনে থাকার পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারেক রহমান–এর প্রত্যাবর্তন এবং সাম্প্রতিক সক্রিয় ভূমিকা তাকে এই স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। তিনি দীর্ঘ সময় লন্ডন–এ অবস্থান করেন এবং সেখান থেকেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা–এর ক্ষমতাচ্যুতির পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তন আসে। এই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় তারেক রহমান বিরোধী রাজনীতির একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মী থেকে সম্ভাব্য জাতীয় নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন।
প্রায় ১৭ বছর দেশের বাইরে থাকার পর তিনি সংগঠিতভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত হন এবং একটি উল্লেখযোগ্য নির্বাচনী সাফল্যের মাধ্যমে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। এছাড়া তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, তিনি তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–এর পথ অনুসরণ করছেন। খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রতিবেদনটিতে তার ব্যক্তিগত জীবন, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারের উল্লেখ রয়েছে। জানুয়ারিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি এবং বেকারত্বের চাপের বিষয়টিও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, দীর্ঘ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পর তিনি দ্রুত জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারেক রহমান মনে করেন, রাজনৈতিক বিভাজন কাটিয়ে জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধারে সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি। এবারের তালিকায় ‘লিডার’ বিভাগে তার সঙ্গে আরও স্থান পেয়েছেন পোপ লিও চতুর্দশ, ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্ক কার্নি, জোহরান মামদানি, শি জিনপিং, সানায়ে তাকাইচি এবং বালেন্দ্র শাহসহ বিশ্ব রাজনীতির আরও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা।