জুলাই গণঅভ্যুত্থান আইন ২০২৬ পাস: অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও মামলা প্রত্যাহারের বিধান
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কাছে ফার্নেস অয়েলচালিত দেশীয় বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া পাওনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক ৪০টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে বিপিডিবির প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। কোনো কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১০ মাস পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ হয়নি।
গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন (বিপ্পা)। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি ডেভিড হাসনাত, সাবেক সভাপতি ইমরান করিম, পরিচালক নাভিদুল হক ও ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইমরান করিম বলেন, বকেয়া বিল দীর্ঘদিন পরিশোধ না হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামা ও ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের চাপ মিলিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ ও জ্বালানি তেল আমদানির অর্থ জোগাতে বাধ্য হয়ে উচ্চ সুদে ব্যাংক ঋণ নিচ্ছে, যা তাদের আর্থিক সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে তুলছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকরা জানান, বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিপিডিবি বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থগিত রাখার আইনগত অধিকার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর রয়েছে। চুক্তির ১৩.২ (জ) ধারা অনুযায়ী এ অবস্থায় বিপিডিবির বিদ্যুৎ গ্রহণের অধিকারও স্থগিত হতে পারে। তবে জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় এখন পর্যন্ত কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করেনি। বিপুল বকেয়া থাকা সত্ত্বেও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তারা জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, বকেয়াজনিত আর্থিক সংকটের কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো যখন উৎপাদন সীমিত করতে বাধ্য হয়েছে, তখন জাতীয় লোড বণ্টন কেন্দ্র বাস্তব চাহিদার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ চাহিদা দেখিয়ে ক্ষতিপূরণমূলক জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর দাবি, এই জরিমানার মাধ্যমে কাগজে-কলমে বিপিডিবির বকেয়া কম দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বকেয়া বিল থেকে জরিমানার অর্থ কর্তন করা হয়েছে এবং অন্য কয়েকটির ক্ষেত্রে কর্তনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকরা আরও বলেন, দেশীয় ও বিদেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে জরিমানা আরোপে ভিন্নতা থাকায় বিদ্যুৎ খাতে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ কমিশনে আবেদন করা হলেও প্রক্রিয়াগত কারণ দেখিয়ে তা খারিজ করা হয়। পরবর্তীতে পুনর্বিবেচনার আবেদন দাখিল করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন। তবে পুনর্বিবেচনার আবেদন নিষ্পত্তি না হলেও বিপিডিবির পক্ষ থেকে জরিমানা কর্তনের সিদ্ধান্ত অব্যাহত থাকায় চুক্তির ন্যায্যতা ও জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংগঠনের সভাপতি ডেভিড হাসনাত বলেন, বকেয়ার টাকা না পেলে জ্বালানি তেল আমদানি করা সম্ভব হবে না। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি জানান, আসন্ন গ্রীষ্মে গত বছরের তুলনায় তাপমাত্রা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং বিদ্যুতের চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যেতে পারে। পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করা না গেলে দেশজুড়ে লোডশেডিং অনিবার্য হয়ে উঠবে।
এ পরিস্থিতিতে রমজান মাস শুরুর আগেই মোট বকেয়ার অন্তত ৬০ শতাংশ পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকরা। তাঁদের মতে, এই অর্থ পরিশোধ করা হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে এবং সম্ভাব্য জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট অনেকটাই এড়ানো যাবে।