জুলাই গণঅভ্যুত্থান আইন ২০২৬ পাস: অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও মামলা প্রত্যাহারের বিধান
২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৯:৩৮ পূর্বাহ্ণ
আজ ২০ জানুয়ারি শহীদ আসাদ দিবস। ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় এই দিনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, যিনি শহীদ আসাদ নামে পরিচিত। তার শাহাদাত বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও স্বাধিকারের আন্দোলনকে নতুন গতি দিয়েছিল এবং পরবর্তীতে গণ-অভ্যুত্থানের পথ প্রশস্ত করেছিল।
দিবসটি উপলক্ষ্যে বাণী দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বাণীতে তিনি বলেন, ‘১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী শহীদ আসাদ বাংলাদেশের গণতন্ত্রপ্রেমী ও মুক্তিকামী মানুষের মাঝে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তার আত্মত্যাগ আমাদের নতুন প্রজন্মকে দেশের জন্য নিজের দায়িত্ব পালন করতে এবং সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে যুগে যুগে উদ্বুদ্ধ করবে।’
প্রতিবারের মতো এবারও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শহীদ আসাদ দিবস পালিত হচ্ছে। সকাল ৮টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের মূল ফটকের সামনে নির্মিত শহীদ আসাদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন, গান ও কবিতা পাঠের আয়োজন করা হয়েছে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের লড়াকু সাংস্কৃতিক জোট ‘গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য’-এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন, পেশাজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শহীদ আসাদের সহযোদ্ধারা এসব কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনের রাস্তায় ছাত্র-জনতার ১১ দফা কর্মসূচির মিছিলে পুলিশ গুলি চালায়। গুলিতে মিছিলে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রনেতা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শহীদ হন এবং অনেকে আহত হন। শহীদ আসাদের এই আত্মত্যাগ চলমান আন্দোলনকে আরও বেগবান করে তোলে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমে আসে, যা এক পর্যায়ে গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
এদিকে শহীদ আসাদ দিবস উপলক্ষ্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বাণীতে শহীদ আসাদের আত্মত্যাগকে গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামের চিরন্তন অনুপ্রেরণা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, শহীদ আসাদ ছিলেন তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব। তার রক্তস্নাত আত্মত্যাগ আন্দোলনের দাবানল ছড়িয়ে দিয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রের বিজয় নিশ্চিত করেছিল।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, যে গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে শহীদ আসাদ নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। একটি সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব। তিনি শহীদ আসাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং গণতন্ত্র ও জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।