জুলাই গণঅভ্যুত্থান আইন ২০২৬ পাস: অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও মামলা প্রত্যাহারের বিধান
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ
কক্সবাজার শহরের পর্যটন এলাকা কলাতলীতে নবনির্মিত ‘এন আলম’ নামের একটি এলপি গ্যাস ফিলিং স্টেশনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া গ্যাস লিকেজের জেরে রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্টেশনটির গ্যাস ট্যাংক থেকে লিকেজ শুরু হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে গ্যাস আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ১৪ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ট্যাংকের গ্যাস সম্পূর্ণ পুড়ে শেষ হলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রিসেন্ট ও স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। আগুনে ফিলিং স্টেশনটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। পাশাপাশি আশপাশের অন্তত ১০টি বসতবাড়ি ও ২০-২৫টি পর্যটক পরিবহনে ব্যবহৃত জিপ গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ সাংবাদিকদের জানান, ফিলিং স্টেশনটির কোনো অনুমোদন ছিল না। গ্যাস লিকেজের কারণেই বিস্ফোরণ হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা আমিন উদ্দিন বলেন, বিস্ফোরণের আগে থেকেই এলাকায় তীব্র গ্যাসের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। বিস্ফোরণের পর আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পাশের ভবনগুলোতেও।
আহতদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সবুকতাগিন মাহমুদ সোহেল জানান, আহতদের মধ্যে ছয়জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। গুরুতর আহত সাতজনকে চট্টগ্রামে এবং তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।
চট্টগ্রামে পাঠানো আহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- চকরিয়া উপজেলার সিকদারপাড়া এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে সাকিব (২৪), রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মো. সিরাজ (২৪), কলাতলী এলাকার মৃত মো. জাকারিয়ার ছেলে আব্দুর রহিম (৪৫) এবং আদর্শ গ্রামের আবদুর রশিদের ছেলে মোতাহের (৪৫)।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিন বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয়দের সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, স্টেশনটির আশপাশের আদর্শগ্রাম, চন্দ্রিমা হাউজিং ও জেলখানা এলাকায় প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবৈধভাবে গ্যাস ফিলিং স্টেশন স্থাপন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।