শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

তারেক রহমানের নেতৃত্বে শুরু বিএনপি সরকারের নতুন অধ্যায়


জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যরা আজ সকাল ১০টায় শপথ নিচ্ছেন। বিকাল ৪টায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিচ্ছে নতুন সরকার।

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০০ পূর্বাহ্ণ 

তারেক রহমানের নেতৃত্বে শুরু বিএনপি সরকারের নতুন অধ্যায়
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর আজ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ এবং বিকালে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সূচিত হচ্ছে নতুন অধ্যায়।

সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে এমপিদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান অনুযায়ী দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। তিন ধাপে প্রায় ১০০ জন করে সংসদ সদস্য শপথ নেবেন এবং শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করবেন।

বিকাল ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী ও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। প্রথা ভেঙে এবার বঙ্গভবনের দরবার হলের পরিবর্তে খোলা স্থানে এই আয়োজন করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২ আসনে জয়লাভ করে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। জামায়াতে ইসলামী জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন এবং স্বতন্ত্র ও অন্যান্যরা পেয়েছে ৮টি আসন। দুটি আসনের ফলাফল স্থগিত রয়েছে এবং শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নির্বাচন হয়নি। একই দিনে অনুষ্ঠিত জুলাই সনদ বিষয়ে গণভোটে বিপুল ভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়। এর ফলে সংবিধান সংশোধন পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নবনির্বাচিত এমপিরা সংবিধান সংশোধন পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেবেন বলে জানা গেছে।

সংসদ ভবন এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ, র‍্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সদস্য মোতায়েন রয়েছে। শপথ অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারের জন্য সংসদ ভবনের বাইরে বড় স্ক্রিন স্থাপন করা হয়েছে। বিদেশি অতিথিদের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা উপস্থিত থাকবেন।

সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অস্থায়ী মঞ্চ, ভিভিআইপি জোন, অতিথি গ্যালারি ও গণমাধ্যম কর্নার প্রস্তুত করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো মেরামত ও সংস্কার শেষে নতুন সাজে প্রস্তুত করা হয়েছে পুরো এলাকা।

শপথ শেষে বিএনপি সংসদীয় দলের বৈঠকে তারেক রহমানকে সংসদের নেতা নির্বাচন করা হবে। একইভাবে জামায়াত সংসদীয় দলের বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচন করবে। নতুন মন্ত্রিসভা হবে আকারে তুলনামূলক ছোট এবং নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে গঠিত। বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা এবং দুর্নীতিমুক্ত, দক্ষ ও জনপ্রিয় ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। জোটের শরিকদেরও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

রাজধানীতে শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। খেজুরবাগান ক্রসিং থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং জুলাই স্মৃতি জাদুঘর (গণভবন ক্রসিং) থেকে উড়োজাহাজ ক্রসিং পর্যন্ত যানচলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত।

নতুন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের আবাসনের জন্য মিন্টো রোড, হেয়ার রোড, ধানমন্ডি ও গুলশানে ৩৭টি সরকারি বাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী কোথায় অবস্থান করবেন সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে।

দীর্ঘ ১৭ বছর বিদেশে অবস্থানের পর দেশে ফিরে নির্বাচনে নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপিকে বিজয়ী করেছেন তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে বিএনপি ষষ্ঠবারের মতো সরকার গঠনের সুযোগ পাচ্ছে। এর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলটি সরকার পরিচালনা করেছে।

আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ডাকা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। আজকের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে এ সরকার দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করতে যাচ্ছে।