বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন উদ্যোগ: অধিনায়কদের জন্য ‘ক্যাপ্টেন্স কার্ড’ চালু
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৪৬ অপরাহ্ণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত গণভোটে সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবে বড় ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হয়েছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার হোসেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৫ জন। গণভোটে অংশগ্রহণের হার ছিল ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন এবং ‘না’ ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন। ফলে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছে ‘হ্যাঁ’ ভোট।
গণভোটে ইতিবাচক ফল আসায় জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের তৃতীয় ধাপ শুরু হচ্ছে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে ১৯টি মৌলিক সংস্কার হিসেবে চিহ্নিত।
সংস্কার প্রস্তাব অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি জীবনে সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন না। পাশাপাশি একই ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধানের দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করতে পারবেন না। বর্তমানে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাহী ক্ষমতার প্রায় সবটিই প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত থাকলেও নতুন প্রস্তাবে ক্ষমতার ভারসাম্য আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংস্কার কার্যকর হলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কিছু ক্ষেত্রে বাড়বে। মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে নিয়োগ রাষ্ট্রপতি নিজ এখতিয়ারে দিতে পারবেন বলে প্রস্তাবে উল্লেখ রয়েছে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় আগামী সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। ফলে আইন প্রণয়ন ও পর্যালোচনায় একটি অতিরিক্ত কক্ষ যুক্ত হবে। সংসদে ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতার আওতাও বাড়বে। এতে দলীয় চাপে ভোট দেওয়ার প্রবণতা কমে আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এছাড়া সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হবে। কোনো একটি দলের একক সিদ্ধান্তে সংবিধান সংশোধন করা কঠিন হবে, ফলে বৃহত্তর ঐকমত্যের প্রয়োজন হবে।
বাস্তবায়নের তিন ধাপ
সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়নে তিনটি ধাপ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে আইনি ভিত্তি দিতে গত ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ জারি করেন। দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত হলো গণভোট। তৃতীয় ধাপে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে। সংসদ সদস্যরা একই সঙ্গে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের ফলাফলের আলোকে সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন না হলে কী হবে- সে বিষয়ে আদেশে স্পষ্ট কোনো উল্লেখ নেই। গণভোটের ফলাফলের মাধ্যমে দেশের সাংবিধানিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন নজর থাকবে বাস্তবায়নের গতিপ্রকৃতি ও রাজনৈতিক ঐকমত্যের ওপর।