শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

ত্রয়োদশ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় ঐতিহাসিক মাইলফলক: ড. ইউনূস


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, এই নির্বাচন একটি গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন, যা জনগণের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও বঞ্চনার সাংবিধানিক প্রকাশ।

১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:৩২ অপরাহ্ণ 

ত্রয়োদশ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় ঐতিহাসিক মাইলফলক: ড. ইউনূস
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক অধ্যায় বলে উল্লেখ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, এই নির্বাচন কেবল একটি নিয়মিত নির্বাচন নয়, বরং একটি গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন।

ড. ইউনূস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভ, বৈষম্য, বঞ্চনা ও অবিচারের বিরুদ্ধে জনগণের যে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে, এই নির্বাচন তার সাংবিধানিক প্রকাশ। রাজপথে উচ্চারিত সেই দাবি আজ ব্যালটের মাধ্যমে প্রতিফলিত হতে যাচ্ছে। এ কারণেই এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।

তিনি বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচনই নয়, বরং বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে- সে সিদ্ধান্তও নেওয়া হবে। দেশ কি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রে পরিণত হবে, নাকি আবারও পুরোনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক ও অনিয়ন্ত্রিত বৃত্তে ফিরে যাবে- এই প্রশ্নের উত্তর দেবে গণভোট।

প্রধান উপদেষ্টা সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। বিজয় যেমন গণতন্ত্রের অংশ, তেমনি পরাজয়ও গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য সত্য। নির্বাচনের পর সবাইকে একসঙ্গে একটি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।

ভাষণে তরুণ ও নারী ভোটারদের উদ্দেশে বিশেষভাবে কথা বলেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, গত ১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার থাকা সত্ত্বেও একটি প্রজন্ম প্রকৃত ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। ভোটের মুখোশ ছিল, কিন্তু ভোট ছিল না; ব্যালট ছিল, কিন্তু ভোটার ছিল না। এই দীর্ঘ বঞ্চনার মূল্য জাতিকে প্রতিদিন দিতে হয়েছে।

তবে তরুণরা আশা ছাড়েনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্দোলন, প্রতিবাদ ও স্বপ্নের মধ্য দিয়ে তারা একটি নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা লালন করেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইতিহাসের গতিপথ বদলানোর সেই সময় এখন এসেছে।

নারীদের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সব গণআন্দোলনে নারীরা শক্তির জায়গা থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও নারীরা ছিলেন সম্মুখসারির যোদ্ধা। নারীরাই দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের শক্ত ভিত্তি।

তিনি বলেন, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র টিকিয়ে রাখতে নারীরা নিরলস সংগ্রাম করলেও দীর্ঘদিন রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে মত প্রকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এই নির্বাচন তাদের জন্য একটি নতুন সূচনা।

তরুণদের উদ্দেশে ড. ইউনূস বলেন, এই ভোট তাদের প্রথম সত্যিকারের রাজনৈতিক উচ্চারণ। তিনি বলেন, ‘ভয়কে পেছনে রেখে, সাহসকে সামনে এনে ভোটকেন্দ্রে যান। আপনার একটি ভোট শুধু একটি সরকার নির্বাচন করবে না; এটি ১৭ বছরের নীরবতার জবাব দেবে, ফ্যাসিবাদের জবাব দেবে এবং প্রমাণ করবে এই দেশ তার তরুণ, নারী ও সংগ্রামী জনতার কণ্ঠ আর কোনোদিন হারাতে দেবে না।’