বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন উদ্যোগ: অধিনায়কদের জন্য ‘ক্যাপ্টেন্স কার্ড’ চালু
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ
গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবার নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে সরকার বিমানবাহিনীর ড্রোন ব্যবহার করবে। ড্রোনের লাইভ ফিড সরাসরি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলে পাঠানো হবে। পাশাপাশি বিমানবাহিনীর ড্রোনের লাইভ ফিড প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়েও সরবরাহ করা হবে।
ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহীদুল ইসলাম ইতোমধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালকের কাছে পৃথক পৃথক চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত শনাক্ত, পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি অত্যন্ত কার্যকর হবে। সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে নির্বাচনি প্রচারণা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গতকাল শেষ মুহূর্তে দিনভর প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে প্রচারণা চালান।
নির্বাচনকালীন সময়ে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি না করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিবদের চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, নির্বাচনকালীন সময়ে সড়ক বা অবকাঠামো উন্নয়নকাজের কারণে টেলিযোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ ট্রান্সমিশন সংযোগ যেন বিচ্ছিন্ন না হয়, সে বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।
ভোট গ্রহণ চলাকালে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দুই ঘণ্টা পরপর কাস্টিং ভোটের হার জানানো হবে বলে নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রভিত্তিক প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা নির্ধারিত সময় অন্তর সংগ্রহ, যাচাই ও ইসির নির্ধারিত ডিজিটাল সিস্টেমে আপলোড করা হবে। এতে কমিশন পর্যায়ে তাৎক্ষণিকভাবে ভোটের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সম্ভব হবে।
এ ছাড়া নির্বাচন ও গণভোটকে প্রভাবমুক্ত রাখতে নির্বাচনি এলাকায় সাড়ে ৮১ ঘণ্টা বহিরাগত অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ভোট গ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে ভোট শেষের ২৪ ঘণ্টা পর পর্যন্ত, অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা, ভোটার ও নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ ওই এলাকায় অবস্থান করতে পারবেন না। এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও পুলিশ কমিশনারদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ভোটের দিন প্রার্থী ও তাঁদের নির্বাচনি এজেন্টদের চলাচলের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইসি। নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাঁর প্রতিটি এজেন্ট একটি করে গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন এবং সর্বোচ্চ পাঁচজনকে সঙ্গে নিয়ে চলাচল করতে পারবেন। দুর্গম এলাকায় গাড়ি চলাচল সম্ভব না হলে প্রার্থী ও এজেন্ট প্রত্যেকে দুটি করে মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে পারবেন। প্রতিটি মোটরসাইকেলে চালকসহ সর্বোচ্চ দুজন থাকতে পারবেন এবং রিটার্নিং অফিসার প্রদত্ত স্টিকার যানবাহনে প্রদর্শন করতে হবে। প্রার্থীর নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত গানম্যানও পাঁচজনের হিসাবের অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। তবে প্রার্থী ও নির্বাচনি এজেন্ট ছাড়া অন্য কেউ ভোটকেন্দ্রের চৌহদ্দিতে প্রবেশ করতে পারবেন না।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে সম্পন্ন করা হবে।