শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

সংসদ নির্বাচনে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ, ব্যানার-লিফলেটেও কঠোর বিধিমালা ইসির


আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বইছে নির্বাচনি হাওয়া। তবে এবারের প্রচারণায় প্রার্থীদের জন্য কঠোর বিধিমালা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন বিধি অনুযায়ী, নির্বাচনি প্রচারণায় যেকোনো ধরনের পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় অপচনশীল দ্রব্যের ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে প্রচার সামগ্রীর আকার ও ধরণও সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে কমিশন।

১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১:৩৩ অপরাহ্ণ 

সংসদ নির্বাচনে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ, ব্যানার-লিফলেটেও কঠোর বিধিমালা ইসির
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

নির্বাচন কমিশনের ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী, গত ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই নির্বাচনি প্রচারণা ভোট গ্রহণ শুরুর ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে শেষ করতে হবে। সেই হিসেবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টার মধ্যে সব ধরনের নির্বাচনি সভা, মিছিল ও প্রচার কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিধিমালার ৭ (ক) ধারা অনুযায়ী, এবার কোনো প্রার্থীই পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। এছাড়া ৭ (খ) ধারায় পরিবেশের কথা মাথায় রেখে রেক্সিন, পলিথিন বা প্লাস্টিকের তৈরি কোনো প্রচারপত্র, লিফলেট বা ব্যানার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রচার সামগ্রীর রঙ ও মাপ: ডিজিটাল মাধ্যম ছাড়া অন্যান্য সকল প্রচার সামগ্রী (ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুন) অবশ্যই সাদা-কালো হতে হবে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে:

ব্যানার: সর্বোচ্চ ১০ ফুট বাই ৪ ফুট। (হরাইজন্টাল বা ভার্টিকাল উভয়ই গ্রহণযোগ্য)।

লিফলেট/হ্যান্ডবিল: এ-ফোর (A4) সাইজের মধ্যে।

ফেস্টুন: অনধিক ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি।

ব্যানার বা লিফলেটে প্রার্থীর নিজের ছবি ও প্রতীক ছাড়া অন্য কারো ছবি ব্যবহার করা যাবে না।

সম্প্রতি কিছু এলাকায় বিধি লঙ্ঘন করে পোস্টার ব্যবহারের খবর পাওয়ায় কঠোর অবস্থানে গেছে ইসি। ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কোনো অবস্থাতেই যেন প্রার্থীর নির্বাচনি পোস্টার মুদ্রণ করা না হয়। এটি আচরণ বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, রিটার্নিং অফিসারদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এবং আচরণবিধি বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।