শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

ব্যালট বক্স ছিনতাই হলে কেউই রেহাই পাবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট পোলিং অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসার ও দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৯:০৯ অপরাহ্ণ 

ব্যালট বক্স ছিনতাই হলে কেউই রেহাই পাবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যালট বক্স ছিনতাই বা নির্বাচন বিঘ্নিত করার কোনো চেষ্টাকে কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনায় কেউই রেহাই পাবে না।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের দিন যদি কোনো ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বক্স ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটে, তবে শুধু দোষীরা নয়- সংশ্লিষ্ট পোলিং অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসার এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে থাকায় প্রশাসনের সব স্তরের কর্মকর্তাদের বিশেষ সতর্কবার্তা দেন তিনি। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্দেশ দেন, প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা যেন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি না করেন এবং সরকারি কর্মচারী হিসেবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কাউকে আলাদা করে তোষামোদ বা তেল দেওয়ার প্রয়োজন নেই। দেশ ও জনগণের স্বার্থে অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করাই হবে সবার প্রধান কাজ। তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এবারের নির্বাচন বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে সুষ্ঠু, অবাধ ও উৎসবমুখর হবে।

সম্প্রতি শেরপুরে নির্বাচনী সংঘাতের জেরে প্রাণহানির ঘটনায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, অপরাধীদের গ্রেপ্তারে কিছুটা সময় লাগলেও কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, অনেক সময় ভাইয়ে ভাইয়ে বা অভ্যন্তরীণ কোন্দল মারামারিতে রূপ নিলে তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে নির্বাচনের দিন যেন এ ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে আগেভাগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তৃণমূল পর্যায়ে মেডিকেল টিম ও ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি কোনো শঙ্কার বিষয় নয় বরং ভোটারদের সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ। বিশেষ করে বয়স্ক ভোটারদের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দিতে এই ব্যবস্থা সহায়ক হবে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, সেনাবাহিনীসহ সব নিরাপত্তা বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের মনোবল চাঙ্গা রাখা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।