শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা ও প্রভাব খাটানো চলবে না: নির্বাচন কমিশনার


ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, প্রভাব খাটানো বা অযথা ভিড় জমানো বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, আচরণবিধি অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা করা হবে এবং ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের হাতেই রয়েছে।

২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:১৬ অপরাহ্ণ 

ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা ও প্রভাব খাটানো চলবে না: নির্বাচন কমিশনার
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, ভোটকেন্দ্রে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারবে না। কেন্দ্রে প্রভাব খাটানো, অযথা ভিড় জমানো কিংবা আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো সুযোগ থাকবে না। আচরণবিধিতে যেভাবে নির্দেশনা দেওয়া আছে, তা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও সাধারণ মানুষের কাছে নির্বাচন কমিশন  ভোট সম্পূর্ণ নিরাপদ নিশ্চিত করতে চায়।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচন কমিশনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া। ভোটাররা যেন নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন এবং কোনো ধরনের ভয়ভীতি যেন তাদের মধ্যে কাজ না করে- সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে, যেন ভয় দেখানো লোকজনই ভয় পায়। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ভোটারদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে নির্বাচন কমিশনার বলেন, প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় প্রায় ১০ জন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। তিন ভাগে বিভক্ত এসব টিম কাজ করবে। এরই মধ্যে দুটি টিম মাঠে কাজ করছে, আর একটি টিম নির্বাচনকালীন চার দিন দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচন পরিচালনায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তিনটি গুণ অবশ্যই থাকতে হবে- স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তা। কোনো বিষয় গোপন করা যাবে না। সক্ষমতা না থাকলেও তা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। সরকার বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো একপেশে নির্দেশনা দেওয়া হবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

ইসি বলেন, এবারের নির্বাচনে কর্মকর্তারা নানা নতুন উদ্যোগ ও আইডিয়া নিয়ে কাজ করছেন, যা ইতিবাচক। ‘হ্যাঁ ভোট’ নিয়েও প্রচার কার্যক্রম চলছে, তবে ভোটারদের এ বিষয়ে পরিষ্কারভাবে বোঝাতে হবে। পোস্টাল ভোট যেন কোনোভাবেই নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। যার ভোট, সে-ই যেন যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভোট দিতে পারেন- এটা নিশ্চিত করতে হবে।

ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে কলম ব্যবহার করা যাবে না, কারণ এতে ইচ্ছাকৃতভাবে ভোট নষ্ট করার আশঙ্কা থাকে। সে জন্য কলমের পরিবর্তে পেন্সিল ব্যবহার করা হবে। এসব বিষয়ে কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনা দেওয়া থাকবে।

নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, একটি দেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে নির্বাচন ও গণতন্ত্র ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গণতন্ত্রের ঘাটতির কারণে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে, তা আমরা ইতোমধ্যে অনুধাবন করেছি। আমরা আর অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দেখতে চাই না। আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশ দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

সভায় জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের কাজে সহায়তা করবে বিএনসিসির সদস্যরা। এ বিষয়ে শিগগিরই সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি পাঠানো হবে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার।

সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনারের এই সফর নির্বাচন প্রস্তুতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত জেলার নির্বাচনী পরিবেশ ভালো রয়েছে এবং গণমাধ্যমে প্রকাশের মতো কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. এরশাদ উদ্দিনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান খলিফা।