এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬: কঠোর নীতিমালায় নতুন নিয়ম ও শাস্তির বিধান
১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ণ
বিদেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালটের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, পোস্টাল ভোটে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি বিএনপিরও ছিল। অনেক সংসদীয় আসনে পোস্টাল ব্যালটের ভোট সংখ্যা পাঁচ থেকে সাত হাজার পর্যন্ত রয়েছে, যা নির্বাচনের ফল নির্ধারণে নিয়ামক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রবাসীদের কাছে পাঠানো পোস্টাল ব্যালটের নকশা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, পোস্টাল ব্যালটে প্রথম লাইনে দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলি ও হাতপাখা প্রতীক থাকলেও বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক মাঝখানে রাখা হয়েছে। ফলে ব্যালট ভাঁজ হলে ধানের শীষ অস্পষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই বিষয়টি ইচ্ছাকৃত বলে অভিযোগ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, নির্বাচন কমিশন অজ্ঞতা প্রকাশ করে জানিয়েছে, তারা বিষয়টি জানে না এবং অক্ষরের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী প্রতীক সাজানো হয়েছে। কিন্তু এটি ভিন্নভাবেও সাজানো যেত বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ ক্ষেত্রে কারা দায়ী, তা খুঁজে বের করার আহ্বান জানান তিনি।
পোস্টাল ব্যালট সংশোধনের দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বাহরাইন ও ওমানে জামায়াত নেতার বাসায় থাকা পোস্টাল ব্যালটের ভিডিও ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে বলে সতর্ক করেন তিনি।
নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, এর আগে এমন ঘটনা কখনো দেখা যায়নি। তার আশঙ্কা, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। এমনকি বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে অর্থ দিয়ে ভোট কেনার প্রলোভনও দেওয়া হতে পারে, যার কিছু প্রমাণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে তিনি দাবি করেন। এ সময় বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের উত্তরবঙ্গ সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক সফর ছিল না; বরং একটি ব্যক্তিগত সফর ছিল। তবে নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে সেই ব্যক্তিগত সফরও স্থগিত করা হয়েছে।
বিএনপি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন চায় এবং সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে দলটি সহযোগিতা করছে। অথচ অন্য দলগুলোর নেতারা আচরণবিধি মানছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন যেন সবার প্রতি সমানভাবে আইনানুগ আচরণ করে, সেই আহ্বান জানান নজরুল ইসলাম খান। তার ভাষায়, নির্বাচন কমিশনের নির্লিপ্ততা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশে বাধা সৃষ্টি করছে।