বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন উদ্যোগ: অধিনায়কদের জন্য ‘ক্যাপ্টেন্স কার্ড’ চালু
১২ জানুয়ারী ২০২৬, ৮:৫৬ অপরাহ্ণ
২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন ছিল পূর্বপরিকল্পিত, সাজানো এবং নিয়ন্ত্রিত—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে একটি তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ প্রতিবেদন জমা দেন কমিশনের সদস্যরা।
প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় তদন্তের বিভিন্ন দিক নিয়ে কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেন সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টারা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন তদন্ত কমিশনের প্রধান সাবেক বিচারক বিচারপতি শামীম হাসনাইন, কমিশন সদস্য শামীম আল মামুন, কাজী মাহফুজুল হক সুপণ, ব্যারিস্টার তাজরিয়ান আকরাম হোসেন এবং ড. মো. আব্দুল আলীম। উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, তথ্য উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান এবং সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং বাকি ১৪৭টি আসনে তথাকথিত ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক’ নির্বাচন আয়োজন করা হয়, যা ছিল সম্পূর্ণ সাজানো। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে এ বন্দোবস্ত করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৪ সালের নির্বাচন সারা বিশ্বে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন হিসেবে সমালোচিত হওয়ায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ২০১৮ সালের নির্বাচনকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক’ করার একটি মিশন গ্রহণ করে। বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দল এই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বুঝতে না পেরে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।
প্রতিবেদন গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা ভোট ডাকাতির কথা শুনেছিলাম, কিছু কিছু জানতাম। কিন্তু এত নির্লজ্জভাবে পুরো প্রক্রিয়াকে বিকৃত করে সিস্টেমকে দুমড়ে-মুচড়ে ফেলে নিজেদের মনের মতো একটা কাগজে রায় লিখে দেওয়া হয়েছে , এসব জাতির সামনে তুলে ধরা দরকার। পুরো রেকর্ড থাকা দরকার।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের টাকা খরচ করে, মানুষের টাকায় নির্বাচন আয়োজন করে পুরো জাতিকেই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এ দেশের মানুষ অসহায়ের মতো তাকিয়ে ছিল, কিছু করতে পারেনি। জনগণ যেন কিছুটা হলেও স্বস্তি পায়, সেজন্য যারা জড়িত ছিল তাদের চেহারা সামনে আনতে হবে। কারা করল, কীভাবে করল- তা জানতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে আর কখনো নির্বাচন ডাকাতি না ঘটে।’
তদন্ত কমিশনের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রায় ৮০ শতাংশ কেন্দ্রে রাতের বেলায় ব্যালট পেপারে সিল মেরে আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত করা হয়। আওয়ামী লীগকে জেতাতে প্রশাসনের মধ্যে এক ধরনের অসৎ প্রতিযোগিতা ছিল, যার ফলে কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোটের হার ১০০ শতাংশেরও বেশি দেখানো হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিএনপিসহ বিরোধী দল অংশ না নেওয়ায় ‘ডামি প্রার্থী’ দিয়ে নির্বাচনকে তথাকথিত ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক’ করার অপকৌশল গ্রহণ করা হয়।
কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তিনটি নির্বাচনের অভিনব পরিকল্পনা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে করা হয় এবং তা বাস্তবায়নে প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়। কিছু কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ ‘নির্বাচন সেল’ এই প্রক্রিয়ায় মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
এছাড়া ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে নির্বাচন ব্যবস্থাকে নির্বাচন কমিশনের হাত থেকে কার্যত প্রশাসনের হাতে নিয়ে যাওয়া হয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই সময় কমিশনের পরিবর্তে প্রশাসনই নির্বাচন পরিচালনার প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়।