বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬

ভোটকেন্দ্রে সন্ত্রাস ও জাল ভোট রোধে কঠোর নির্দেশনা ইসির


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে ভোটকেন্দ্র ও এর আশপাশে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, জাল ভোট প্রদান এবং অস্ত্র প্রদর্শন বা ব্যবহার কঠোরভাবে দমনের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে প্রার্থী, তাদের এজেন্ট ও সমর্থকদের সব ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

১০ জানুয়ারী ২০২৬, ৩:৪৪ অপরাহ্ণ 

ভোটকেন্দ্রে সন্ত্রাস ও জাল ভোট রোধে কঠোর নির্দেশনা ইসির
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ভোটকেন্দ্র ও কেন্দ্রসংলগ্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, জাল ভোট প্রদান, অস্ত্র প্রদর্শন বা ব্যবহার প্রতিরোধে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পরিপত্রে বলা হয়, ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে ক্যানভাস করা, উচ্ছৃঙ্খল আচরণ, অবৈধ হস্তক্ষেপ, বলপ্রয়োগ, অস্ত্র প্রদর্শন বা ব্যবহার এবং ভোটের গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণ বেআইনি। এসব অপরাধ প্রতিরোধে নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ রাখতে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর যত দ্রুত সম্ভব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক আয়োজন করতে হবে। ওই বৈঠকে প্রার্থী, তাদের নির্বাচনী ও পোলিং এজেন্টদের রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা–২০২৫ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে অবহিত করতে হবে।

পরিপত্রে নির্বাচনী আইন ও বিধি মেনে চলা, নির্বাচনী ব্যয়ের সম্ভাব্য উৎস ও ব্যয়ের হিসাব যথাসময়ে দাখিল, এবং নির্বাচনী সন্ত্রাস, ভীতি প্রদর্শন, বলপ্রয়োগ ও অস্ত্র বা বিস্ফোরক দ্রব্যের ব্যবহার রোধে সর্বাত্মক সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়।

নির্বাচনী এজেন্ট নিয়োগ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, একজন প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার যেকোনো যোগ্য ভোটারকে তার নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবেন। এ জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে এজেন্টের নাম, পিতার নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও ঠিকানা জমা দিতে হবে। প্রার্থী যেকোনো সময় এজেন্টের নিয়োগ বাতিল করে নতুন এজেন্ট নিয়োগ দিতে পারবেন। কোনো এজেন্ট নিয়োগ না করলে প্রার্থী নিজেই নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে গণ্য হবেন।

এ ছাড়া গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ধারা ২২(১) অনুযায়ী, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্ট ভোটগ্রহণের আগে প্রতিটি ভোটকক্ষের জন্য একজন করে পোলিং এজেন্ট নিয়োগ করতে পারবেন। পোলিং এজেন্টের নিয়োগপত্র সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে এবং একটি ভোটকক্ষে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ একজন পোলিং এজেন্ট রাখতে পারবেন।

 

নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তারা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেবেন। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।