বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬

বাংলাদেশ–ইইউ সমন্বিত অংশীদারি চুক্তির আলোচনা শিগগিরই চূড়ান্ত পর্যায়ে: ইইউ কর্মকর্তা


ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও বাংলাদেশের মধ্যে সমন্বিত অংশীদারি চুক্তি (কমপ্রিহেনসিভ পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট- পিসিএ) নিয়ে আলোচনা শিগগিরই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন ইইউর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৯:২৫ অপরাহ্ণ 

বাংলাদেশ–ইইউ সমন্বিত অংশীদারি চুক্তির আলোচনা শিগগিরই চূড়ান্ত পর্যায়ে: ইইউ কর্মকর্তা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও বাংলাদেশের মধ্যে সমন্বিত অংশীদারি ও সহযোগিতা কাঠামো চুক্তি (কমপ্রিহেনসিভ পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট- পিসিএ) নিয়ে আলোচনা শিগগিরই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন ইইউর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

ইউরোপীয় এক্সটারনাল অ্যাকশন সার্ভিসের (ইইএএস) এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাওলা পাম্পালোনি বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ কথা বলেন। সাক্ষাতে বাংলাদেশ- ইইউ সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে পিসিএ চুক্তি নিয়ে চলমান আলোচনা, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট, অবৈধ অভিবাসন রোধ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।

পাওলা পাম্পালোনি বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে সাধারণ অংশীদারি চুক্তির আওতায় সম্পর্ক পরিচালনার পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে সমন্বিত অংশীদারি চুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস যে ‘অসাধারণ ও ব্যাপক’ সংস্কারমূলক উদ্যোগ নিয়েছেন, তার জন্য তাকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রমকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংস্কারের যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেখা গেছে, তা ইইউ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও প্রশংসা করেছে।

পিসিএ চুক্তিতে অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে ইইউ কর্মকর্তা বলেন, এই চুক্তি দুই পক্ষের সম্পর্ককে আরও গভীর করবে এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন ও বড় সুযোগ সৃষ্টি করবে।

জবাবে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গত ১৭ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারকে ইইউর ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, পিসিএ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি চুক্তি, যা বাংলাদেশ–ইইউ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।

পাওলা পাম্পালোনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ইইউ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এরই প্রতিফলন হিসেবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইইউ একটি উচ্চপর্যায়ের বড় নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি জানান, ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান চলতি সপ্তাহেই বাংলাদেশে আসবেন এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট- দুটিই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদে সমর্থন দিয়েছে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাবে বলে তিনি আশাবাদী।
“আমি মনে করি না কোনো দল ‘না’ ভোটের পক্ষে যাবে”

নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ করতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, স্বৈরশাসনের কারণে গত ১৬ বছর মানুষ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। এবার মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারবে।

পাওলা পাম্পালোনি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সফল গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পর বাংলাদেশ–ইইউ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে, যা বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনৈতিক জোটের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

সাক্ষাতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার উপস্থিত ছিলেন।