শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

শরিফ ওসমান হাদি হত্যাচেষ্টা মামলা: দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা সংযোজনের আদেশ


ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলাটিতে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেওয়া হয়।

২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ৮:৫১ অপরাহ্ণ 

শরিফ ওসমান হাদি হত্যাচেষ্টা মামলা: দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা সংযোজনের আদেশ
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় করা মামলাটিতে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের আদেশ দিয়েছেন আদালত। শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

রোববার পল্টন থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক রোকনুজ্জামান বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

এর আগে শনিবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলায় ৩০২ ধারা সংযোজনের জন্য আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় এজাহারনামীয় পলাতক আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ রাহুল দাউদ (৩৭) ও তার অজ্ঞাতনামা সহযোগীরা গত ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে দেশকে অস্থিতিশীল করা, অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি, জনমনে আতঙ্ক ও ভীতি ছড়ানো এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ বানচালের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ১২ ডিসেম্বর মতিঝিল ওয়াপদা মসজিদে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট রোডের ডিআর টাওয়ারের সামনে বিজয়নগর পানির ট্যাংকের দিকে যাওয়ার সময় শরিফ ওসমান হাদিকে বহনকারী অটোরিকশাকে অনুসরণ করে মোটরসাইকেলে থাকা আসামিরা চলন্ত অবস্থায় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করে পালিয়ে যায়।

গুলিবিদ্ধ হয়ে শরিফ ওসমান হাদি গুরুতর আহত হলে প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। পরদিন ১৯ ডিসেম্বর তার মরদেহ দেশে আনা হয়। আবেদনে মামলাটিকে একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পূর্বে দায়ের করা ধারার সঙ্গে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা সংযোজনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়। আদালত তা বিবেচনায় নিয়ে ৩০২ ধারা সংযোজনের আদেশ দেন।

উল্লেখ্য, শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২০(বি), ৩২৬, ৩০৭, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল।