এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬: কঠোর নীতিমালায় নতুন নিয়ম ও শাস্তির বিধান
১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং বাংলাদেশ হাওড় ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ ২০২৫-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫-এর আওতায় কোনো ব্যক্তি ন্যূনতম পাঁচ বছর ধরে গুম থাকলে এবং জীবিত ফিরে না এলে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ডিসাপিয়ার্ড’ বা ‘গুম’ ঘোষণা করতে পারবে।অধ্যাদেশ অনুযায়ী, মানবাধিকার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনাল’-এর জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ দিতে পারবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী বা অভিযোগকারী নিজ উদ্যোগে ট্রাইব্যুনালে আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ পাবেন। এছাড়া গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী বা তার ওপর নির্ভরশীল পরিবারের কোনো সদস্য কমিশনের পূর্বানুমতি ছাড়াই গুম হওয়া ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহার করতে পারবেন।
একই বৈঠকে বাংলাদেশ হাওড় ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ ২০২৫-এর খসড়ারও নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রেস উইং জানায়, বাংলাদেশের হাওর অঞ্চল একটি বিরল ও অনন্য ইকোসিস্টেম হলেও অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, নদী ও নদীপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, বিষ ও কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং পর্যটনের বিরূপ প্রভাবে এ অঞ্চল মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি জলাশয় রক্ষায় বিদ্যমান আইনি কাঠামোও অপর্যাপ্ত।নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে হাওড় ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের দায়িত্ব, কর্তৃত্ব ও অধিক্ষেত্র স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হবে। হাওড় ও জলাভূমি এলাকার জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণের লক্ষ্যে সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারির বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সংরক্ষিত হাওর ও জলাভূমি এলাকা ঘোষণা করার সুযোগও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অধ্যাদেশে হাওড় ও জলাভূমি এলাকায় নিষিদ্ধ কার্যক্রমের তালিকা নির্ধারণ, এসব কার্যক্রম সংঘটিত হলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য করা এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, হাওড় ও জলাভূমি এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ব্যতিক্রম ছাড়া সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের মতামত গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।এ ছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য কর্তৃপক্ষ ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়, স্থানীয় অংশীজনদের সম্পৃক্ততা এবং সংরক্ষণ কার্যক্রমে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিধি, প্রবিধান ও নির্দেশিকা প্রণয়নের ক্ষমতাও অধ্যাদেশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।