এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬: কঠোর নীতিমালায় নতুন নিয়ম ও শাস্তির বিধান
১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১:৫৮ অপরাহ্ণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপত্র দাখিল, বাছাই, জামানত প্রদান ও প্রার্থিতা প্রত্যাহার সংক্রান্ত বিস্তারিত পদ্ধতি জানিয়ে পরিপত্র-২ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি এ পরিপত্র জারি করে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ১৩ অনুচ্ছেদের (১) ও (২) দফা এবং নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮-এর ৪ বিধি অনুসারে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রার্থীকে জামানতের অর্থ প্রদানসহ নির্ধারিত বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।
ইসি জানায়, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রার্থীকে নগদ, ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার বা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা নির্বাচন কমিশনের অনুকূলে রিটার্নিং অফিসার বা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নিকট জমা দিতে হবে। কোনো প্রার্থীর অনুকূলে একটি নির্বাচনি এলাকায় একাধিক মনোনয়নপত্র দাখিল করা হলে শুধু একটি জামানতই যথেষ্ট হবে। অন্য মনোনয়নপত্রগুলোর সঙ্গে চালান বা রসিদের সত্যায়িত অনুলিপি সংযুক্ত করতে হবে। ইসি আরও জানায়, আগামী ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই দিন বিকাল ৫টার পর কোনো মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হবে না।
মনোনয়নপত্র দাখিল ও গ্রহণ প্রক্রিয়া
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ১২ অনুচ্ছেদ এবং সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের বিধান অনুসারে যোগ্য প্রার্থীরা সরাসরি রিটার্নিং অফিসার বা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নিকট মনোনয়নপত্র (ফরম-১) দাখিল করতে পারবেন। প্রার্থী ছাড়াও তাঁর প্রস্তাবকারী বা সমর্থনকারী মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারবেন। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বা তার আগে যেকোনো দিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। মনোনয়নপত্র গ্রহণের সময় ক্রমিক নম্বর প্রদান করতে হবে এবং দাখিলকারীকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্তি স্বীকার রসিদ ও মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের তারিখ, সময় ও স্থান উল্লেখ করে নোটিশ দিতে হবে।
জামানত ও প্রস্তাবকারী-সমর্থনকারী সংক্রান্ত বিধান
পরিপত্র অনুযায়ী, জামানতের অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংক বা যেকোনো ব্যাংক বা সরকারি ট্রেজারিতে ১০৯০৩০২১০১৪৪৩-৮১১৩৫০১ কোডে জমা দিতে হবে। প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ভোটার হতে হবে এবং তিনি অন্য কোনো মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক বা সমর্থক হিসেবে স্বাক্ষর প্রদান করেননি- এমন হতে হবে।
রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও প্রার্থিতা প্রত্যাহার
রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর ক্ষেত্রে দলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক বা সমপর্যায়ের পদাধিকারী কর্তৃক স্বাক্ষরিত প্রত্যয়নপত্র মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়ই জমা দিতে হবে। কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল একটি আসনে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন দিলে, দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত লিখিত পত্রের মাধ্যমে ২০ জানুয়ারি বিকাল ৫টার মধ্যে চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম রিটার্নিং অফিসারকে জানাতে হবে। অন্য প্রার্থীদের মনোনয়ন স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত বলে গণ্য হবে।যেকোনো বৈধ মনোনীত প্রার্থী লিখিত ও স্বাক্ষরিত নোটিশের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজে বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন। একবার প্রত্যাহারের নোটিশ দেওয়া হলে বা দল কর্তৃক চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণা হলে তা আর বাতিল করা যাবে না।
মনোনয়নপত্র বাছাই ও আপিল
রিটার্নিং অফিসার গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ১৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বাছাই করবেন। বাছাইয়ের সময় প্রার্থী, তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট, প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারী উপস্থিত থাকতে পারবেন। ছোটখাটো বা সারবত্তাহীন ত্রুটির কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল করা যাবে না এবং তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধনযোগ্য হলে সংশোধনের সুযোগ দিতে হবে। তবে হলফনামার কোনো তথ্য পরিবর্তন করা যাবে না।মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা ৫ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারি বিকাল ৫টার মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। নির্বাচন কমিশন ১২ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করবে।