শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা: ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নসংক্রান্ত গণভোটের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একযোগে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে জাতির উদ্দেশে ভাষণে জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।

১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ৭:০০ অপরাহ্ণ 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা: ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বৃহস্পতিবার, দেশে ৩০০ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫–এর ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এই তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে একযোগে এই ভাষণ সম্প্রচার করা হয়।

সিইসি জানান, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২৯ ডিসেম্বর। পরবর্তী ধাপে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই হবে। রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের শেষ সময় ১১ জানুয়ারি এবং কমিশনে দাখিলকৃত আপিল ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি নিষ্পত্তি করা হবে।

এরপর ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ হবে। ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে।

ঘোষণা অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে। এ বছর ভোটদানের সময় এক ঘণ্টা বৃদ্ধি করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালট হবে সাদাকালো, আর গণভোটের ব্যালটের রং নির্ধারণ করা হয়েছে গোলাপি। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

গত বছরের ৫ আগস্ট ২০২৪ ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যাত্রা শুরু হয়। সরকার গঠনের বর্ষপূর্তির প্রাক্কালে ২০২৫ সালের ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা দেন যে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ১৩ নভেম্বর ঘোষণা দেওয়া হয়, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে সম্পন্ন হবে।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।