শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

শিশু অধিকার সুরক্ষায় চার দফা দাবি


আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে শিশুদের রাজনৈতিক ব্যবহার নিষিদ্ধসহ চারটি দাবি নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে লিডো, এইচআরডিসি ও ডিসিডি। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত আলোচনায় বক্তারা বলেন, শিশুরা ভোট দেয় না- কিন্তু নির্বাচনের সময় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ে।

১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ৭:৩৯ পূর্বাহ্ণ 

শিশু অধিকার সুরক্ষায় চার দফা দাবি
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে শিশুদের রাজনৈতিক ব্যবহার নিষিদ্ধসহ চারটি দাবি নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে লিডো, এইচআরডিসি ও ডিসিডি। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত আলোচনায় বক্তারা বলেন, শিশুরা ভোট দেয় না- কিন্তু নির্বাচনের সময় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ে।

আসন্ন ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শিশু অধিকার রক্ষায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে লোকাল এডুকেশন অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (লিডো), হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (এইচআরডিসি) এবং ঢাকা সেন্টার ফর ডায়ালগ (ডিসিডি)।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আকরাম খান হলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনায় সংগঠনগুলো এ দাবি জানায়। তারা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে শিশুবান্ধব নীতিগত অবস্থান নিতে হবে এবং শিশুর নিরাপত্তা বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে।

সংগঠনগুলোর উপস্থাপিত চার দাবি হলো- 

১. কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি, মিছিল বা প্রচারণায় শিশুদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা।

২. নির্বাচনকালীন সময়ে রাস্তার ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ।

৩. শিশু অধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা।

৪. শিশুদের রাজনৈতিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করা।

লিডোর চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, ভাইস চেয়ারম্যান দিদারুল আলম, আমজনতা দলের সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমান, এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর শাহজাহান খান, ঢাবি ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক ওয়াসিফ তামি, এশিয়ান টিভির সাবেক হেড অব নিউজ সিরাজুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামী ঢাকা-৬-এর প্রার্থী ড. আবদুল মান্নান, ইউকে বিএনপির প্রচার সম্পাদক মইনুল, ডিসিডির প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মেজবা প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, “শিশুরা ভোট দেয় না, কিন্তু ভোটের সময় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ে।” তাদের মতে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিরাপদ না হলে কোনো নির্বাচনই অর্থবহ হতে পারে না। তারা আরও বলেন, শিশুশ্রম, পথশিশুদের শোষণ এবং রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে শিশুদের ব্যবহার এখনও চলছে- যা অনৈতিক ও মানবাধিকারবিরোধী।

বক্তারা উল্লেখ করেন, পথশিশুদের শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান ও নিরাপত্তায় রাষ্ট্রের কার্যকর ভূমিকা এখনও দুর্বল। অনেক শিশু খাদ্য ও চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত হয়। পূর্ববর্তী সরকারের ভিক্ষুক পুনর্বাসন উদ্যোগ স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তারা।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে শিশু অধিকার লঙ্ঘনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বক্তারা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নীরবতার সমালোচনা করেন। তারা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে পথশিশুদের অধিকার রক্ষা ও শিশুদের রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার বন্ধে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে।

শেষে বক্তারা আহ্বান জানান- পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একসঙ্গে এগিয়ে এসে শিশুদের স্বপ্ন দেখাতে হবে এবং তাদের স্বপ্নপূরণে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে