শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

আসন্ন নির্বাচন নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ


গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে নতুন বাংলাদেশ গড়ার ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, নির্বাচন সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতে পারলে দিনটি জনগণের জন্যও স্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং দেশ ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা পাবে।

১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ৩:২৩ অপরাহ্ণ 

আসন্ন নির্বাচন নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার অসাধারণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা থেকে সারাদেশের উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নির্বাচন প্রস্তুতি বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদানকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধান উপদেষ্টার উপ–প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ভিডিও কনফারেন্সের তথ্য গণমাধ্যমকে জানান। এ সময় সব জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারাও অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।

নতুন প্রজন্মের জন্য নতুন সুযোগ

ইউএনওদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন,
“ইতিহাস আমাদের নতুন করে একটি সুযোগ দিয়েছে। অন্য জেনারেশন এ সুযোগ পাবে না। এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে পারবো, আর যদি না পারি তাহলে জাতি মুখ থুবড়ে পড়বে।”

তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলো প্রকৃত নির্বাচন ছিল না।“যে কোনো সুস্থ মানুষ বলবে- এগুলো নির্বাচন নয়, প্রতারণা হয়েছে।”

নির্বাচন শুধু দায়িত্ব নয়, একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত

আসন্ন নির্বাচনকে তিনি একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব হিসেবে অভিহিত করেন।তিনি বলেন,“আমরা যদি ভালোভাবে এই দায়িত্ব পালন করতে পারি, তাহলে আগামী নির্বাচনের দিনটি জনগণের জন্যও ঐতিহাসিক হবে।”

ইউএনওদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলেই সরকার তার দায়িত্ব সফলভাবে পালন করতে পারবে। নির্বাচন এবং গণভোট—দুটিই জাতির ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গণভোট বিষয়ে তিনি বলেন,
“নির্বাচন পাঁচ বছরের জন্য, আর গণভোট শত বছরের জন্য। এর মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশকে স্থায়ীভাবে পাল্টে দিতে পারি। নতুন বাংলাদেশের ভিত এখানেই গড়া হবে।”

ভোটারদের সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন,
“ভোটারদের বোঝাতে হবে- হ্যাঁ দেবেন নাকি না দেবেন- মন ঠিক করে আসুন।”

শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশনা ,সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ইউএনওদের তিনি বলেন, তাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব একটি শান্তিপূর্ণ, সুন্দর ও আনন্দমুখর নির্বাচন আয়োজন করা।
তিনি পরামর্শ দেন- 

সব ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ ও এলাকার মানুষদের সঙ্গে আলোচনা,সমন্বিত প্রস্তুতি গ্রহণ।তিনি কর্মকর্তাদের ধাত্রীর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “ধাত্রী ভালো হলে জন্ম নেওয়া শিশুও ভালো হয়।কর্মকর্তাদের সৃজনশীলভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে এবং অপতথ্য–গুজব প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন তিনি।নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ ও ভোটকেন্দ্রে সহজে প্রবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেন প্রধান উপদেষ্টা।তিনি জানান, খুব শিগগিরই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।ইউএনওদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত কখন, কীভাবে, কোন কাজটি করবেন- এখন থেকেই পরিকল্পনা নিন। ”অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ, প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম ও জনপ্রশাসন সচিব মো. এহছানুল হকসহ সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।