এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬: কঠোর নীতিমালায় নতুন নিয়ম ও শাস্তির বিধান
৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ৩:০১ অপরাহ্ণ
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত রোকেয়া দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “আমরা ১০০ বছর পরেও আরেকজন রোকেয়া সৃষ্টি করতে পারিনি। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য।” তিনি বলেন, বেগম রোকেয়া যেসব দিকনির্দেশনা ও স্বপ্ন দিয়ে গেছেন, সেগুলো জাতি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে পারেনি, অগ্রসরও হতে পারেনি।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আজকের আয়োজন কেবল তাকে স্মরণ করার জন্য নয়; আমাদের ব্যর্থতাগুলো খুঁজে বের করার জন্য। কেন আমরা ব্যর্থ হলাম? কেন ১০০ বছরেও আরেকজন রোকেয়া আমাদের মাঝে আসলো না—যে আমাদের পথ দেখাবে, এগিয়ে নেবে, ধাক্কা দেবে?”
শান্তিতে নোবেলজয়ী ইউনূস বলেন, রোকেয়ার স্বপ্ন ছিল বিপ্লবী—যে স্বপ্ন সে সময়ে কল্পনাতীত। তিনি বলেন, “আজ শুনলে মনে হয় সুন্দর কথা, কিন্তু তখন ছিল ঝাঁকুনি দেওয়ার মতো কথা। দুঃখের বিষয়, সে ঝাঁকুনি বহন করার মতো মানুষ আর তৈরি হয়নি।”নারীশিক্ষা, নারীর আত্মনির্ভরতা ও সমাজ বদলের রোকেয়ার দৃষ্টিভঙ্গির কথা উল্লেখ করে ইউনূস বলেন, “রোকেয়া ১০০–১৫০ বছর আগে বলেছিলেন-নারীকে লেখাপড়া শেখাও, যাতে সে নিজের অন্ন উপার্জন করতে পারে। তিনি চাকরির কথা বলেননি; বলেছেন নিজের ভরনপোষণের কথা। আমরা এখনো সেই শিক্ষা গ্রহণ করতে পারিনি।”তিনি আরও বলেন, “রোকেয়া নিজের ব্যক্তিগত ব্যস্ততার মাঝেও সমাজকে কখনো আলাদা করে দেখেননি। সবকিছুই করেছেন সমাজকে সঙ্গে নিয়ে।”
অনুষ্ঠানে রোকেয়া পদকপ্রাপ্তদের প্রশংসা করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আজ যারা পুরস্কার পেলেন, তারা শুধু বাংলাদেশের নয়- তারা সারা পৃথিবীর নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাময় নারী। তাদের পথচলা আমাদের জাতিকে রোকেয়ার আদর্শের দিকে এগিয়ে নিচ্ছে।”অনুষ্ঠানে চার নারীর হাতে রোকেয়া পদক তুলে দেন সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস।এদের মধ্যে-
নারীশিক্ষা (গবেষণা) : রুভানা রাকিব
নারী অধিকার (শ্রম অধিকার) : কল্পনা আক্তার
মানবাধিকার : নাবিলা ইদ্রিস
নারী জাগরণ (ক্রীড়া) : পদক পন ঋতুপর্ণা চাকমা
প্রতিবছর ৯ ডিসেম্বর রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীতে বাংলাদেশ সরকার রোকেয়া পদক প্রদান করে থাকে।১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুরের মিঠাপুকুরের পায়রাবন্দে জন্ম নেওয়া নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া ১৯৩২ সালের এই দিনে কলকাতার সোদপুরে মৃত্যুবরণ করেন। বাল্যবিয়ে, পণ, যৌতুক, ধর্মীয় কুসংস্কারসহ নারীর প্রতি সমাজের বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমৃত্যু লড়াই করেছেন তিনি। মতিচূর, সুলতানার স্বপ্ন, পদ্মরাগ, অবরোধবাসিনীসহ তার গ্রন্থগুলোতে তিনি নারীর অধিকার ও মুক্তির বার্তা তুলে ধরেছেন।