শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার থাকছেন ডিসিরাই


রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের দাবি থাকা সত্ত্বেও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে আবারও জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামীকাল রবিবার কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হবে বলে জানা গেছে।

৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ 

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার থাকছেন ডিসিরাই
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি দীর্ঘদিনের হলেও তা গ্রহণ না করে পূর্বের চর্চা অনুযায়ী ডিসিদেরই নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র বলছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা করতে পারে কমিশন। আর তফসিল অনুযায়ী ৮ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যেকোনো দিন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এসব সিদ্ধান্ত আগামীকাল রবিবারের কমিশন সভায় চূড়ান্ত হবে। একই বৈঠকে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হবে।

নিরাপত্তা, মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রশাসনিক দক্ষতা—এই তিন কারণ দেখিয়ে ডিসিদের ওপরই ভরসা রাখছে ইসি। যদিও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হওয়া তিনটি জাতীয় নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের রিটার্নিং অফিসার করার দাবি তুলেছিলেন রাজনৈতিক নেতারা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিটিও একই সুপারিশ করেছিল।

এদিকে ইসির কর্মকর্তাদের দাবি, জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ শতাধিক উপনির্বাচন তারা সফলভাবে পরিচালনা করেছেন, যেখানে ভোটকেন্দ্র এবং প্রার্থীর সংখ্যা জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় অনেক বেশি। তাদের অভিযোগ, ডিসিদের নিয়োগ দেওয়া হলেও জাতীয় নির্বাচনের মূল অপারেশনাল কাজ ইসির কর্মকর্তারাই করেন।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মনির হোসেন বলেন, “৩০০ আসনে দায়িত্ব পালনের জন্য ইসির যথেষ্ট কর্মকর্তা আছে। তাই রিটার্নিং অফিসার হিসেবে ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া উচিত।”

রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও একই দাবি জানানো হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান ইসির সংলাপে বলেন, “৩০০ আসনে সরকারের কাছ থেকে কর্মকর্তা না নিয়ে ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের সাহস করে দায়িত্ব দিন। এতে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসবে।”
তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদ ব্যবহার করে নির্বাচন প্রভাবিত হওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে ইসিকে শক্ত অবস্থান নিতে হবে।

একই দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (কাঁঠাল প্রতীক) লিখিত প্রস্তাবে বলে, রিটার্নিং অফিসার হিসেবে ডিসি ও ইউএনওদের পরিবর্তে জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিতে হবে, যাতে প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত হয়।

বিশেষজ্ঞ ও সাবেক কর্মকর্তারাও ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের নিয়োগের পক্ষে মত দিয়েছেন। সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলি বলেন, “ইসি কর্মকর্তারা আইন ভালো বোঝেন এবং প্রয়োগ করতে পারেন। কিছু জেলায় ডিসি এবং কিছু জেলায় ইসি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিলে তাও কার্যকর হতে পারে।”

তবে কমিশনের ভেতরে বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ একজন কমিশনার ইসি কর্মকর্তাদের নিয়োগের পক্ষে থাকলেও আরেকদল কমিশনার মনে করেন, মাঠ প্রশাসনের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার কারণে ডিসিরাই সবচেয়ে উপযুক্ত।

ফলে আপাতত সিদ্ধান্ত—ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের দুই বিভাগীয় কমিশনার এবং দেশের ৬৪ জেলার ডিসি—মোট ৬৬ জন রিটার্নিং অফিসার হবেন।
সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)।

তবে সূত্র জানিয়েছে, দু-একটি জেলার দায়িত্বে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা বা জ্যেষ্ঠ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের বসানো হতে পারে—এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

আইন অনুযায়ী, রিটার্নিং অফিসার নিয়োগে কোনো নির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতা নেই। কমিশন চাইলে সমাজের যে–কোনো ব্যক্তি বা সরকারি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিতে পারে। তবুও জাতীয় নির্বাচনে দীর্ঘদিন ধরে ডিসিদের ওপরই নির্ভর করছে ইসি।