শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

রাষ্ট্র সংস্কার কি সরকারের কাছে শুধুই ফাঁকা বুলি, প্রশ্ন টিআইবির


অন্তর্বর্তী সরকার কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ বাদ দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫-এর চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি। টিআইবি প্রশ্ন তুলেছে, রাষ্ট্র সংস্কার কি সরকারের কাছে শুধুই ফাঁকা বুলি?

২৯ নভেম্বর ২০২৫, ৫:১৩ অপরাহ্ণ 

রাষ্ট্র সংস্কার কি সরকারের কাছে শুধুই ফাঁকা বুলি, প্রশ্ন টিআইবির
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

অন্তর্বর্তী সরকার কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ বাদ দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫-এর চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি।জুলাই সনদে সব রাজনৈতিক দলের সম্পূর্ণ ঐকমত্যসহ অন্তর্ভুক্ত টিআইবির ধারাবাহিক অধিপরামর্শের পরও এটি বাদ দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে টিআইবি প্রশ্ন তুলেছে, রাষ্ট্র সংস্কার কি সরকারের কাছে শুধুই ফাঁকা বুলি?

শুক্রবার (২৮,নভেম্বর) টিআইবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দুদক মূলত ক্ষমতাসীনদের ইঙ্গিতে কেবল প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে পরিচিত। এটি উত্তরণের লক্ষ্যে দুদকের ‘বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি’ গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুপারিশ পদদলিত করে উপদেষ্টা পরিষদ দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫ চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করেছে। এতে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে টিআইবি বলেছে, ‘জুলাই সনদে সব রাজনৈতিক দলের সম্পূর্ণ ঐকমত্যসহ অন্তর্ভুক্ত ও টিআইবির ধারাবাহিক অধিপরামর্শের ফলে এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সম্মতির পরও চূড়ান্ত অধ্যাদেশে তা বাদ দেওয়া শুধু হতাশাজনক নয়, সরকারের ভেতরের প্রায় সব ক্ষেত্রে সংস্কার-প্রতিরোধক মহলের ষড়যন্ত্রের কাছে রাষ্ট্র সংস্কারের অভীষ্টের জিম্মিদশারও পরিচায়ক।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দুদকের সর্বোচ্চ প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গঠিত ‘দুদক সংস্কার কমিশন’ এবং ‘বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি’ গঠনের সুপারিশ চূড়ান্ত অধ্যাদেশ থেকে বাদ পড়েছে। টিআইবির অভিযোগ, বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি বাতিলের মাধ্যমে সরকার দুদককে জবাবদিহির বাইরে রাখার এবং ক্ষমতাসীনদের সুরক্ষা ও প্রতিপক্ষকে হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ রেখেছে।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিগত দুই দশকের অভিজ্ঞতা, অংশীজনদের মতামত, আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রেক্ষিত বিবেচনায় দুদক যাতে ক্ষমতাসীনদের হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে চলমান না থাকে, সে লক্ষ‍্যে দুদক সংস্কার কমিশন ‘বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি’ গঠনের সুপারিশ করেছিল। জন্মলগ্ন থেকে দুদক যেভাবে জন–আস্থার সংকটে ভুগছে এবং স্বার্থান্বেষী মহলের ক্রীড়নক হিসেবে ক্ষমতাসীনদের সুরক্ষা আর প্রতিপক্ষকে হয়রানির হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে, তা থেকে উত্তরণ ঘটাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ প্রস্তাবটি করা হয়েছিল।

সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, অধ্যাদেশের খসড়া বিদ্যমান আইনের তুলনায় কিছুটা উন্নত হওয়ায় তারা সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছিল। তবে কৌশলগত সুপারিশ বাদ পড়ায় এটি এখন গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।