বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন উদ্যোগ: অধিনায়কদের জন্য ‘ক্যাপ্টেন্স কার্ড’ চালু
১৯ নভেম্বর ২০২৫, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বর্তমানে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। রায়ের পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাঁকে ফেরত দিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু ভারত তাঁকে ফেরত দিতে চাইবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারত তাকে ফেরত পাঠালে সেটা শুধু রাজনৈতিক ঝুঁকিই নয় বরং ‘মিত্রকে বাঁচানোর নৈতিক দায়’ থেকেও সরে আসা হবে।
ভারত বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির অনুচ্ছেদ ৬ এ উল্লেখ আছে রাজনৈতিক কারণে রাজনৈতিক ব্যক্তি যদি দেশ ছেড়ে ভারতে যায়,সেক্ষেত্রে ভারত -বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তিটি কার্যকর হবে না । এছাড়াও অনুচ্ছেদ ১১ তে আরও ৫ টি পয়েন্ট রয়েছে ,যেসব প্রশ্নের উত্তর বাংলাদেশকে সঠিক ভাবে দিতে হবে। এদিকে ভারত এর গণমাধ্যমগুলো বলছে বাংলাদেশের এই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অবৈধ । এতে অনুচ্ছেদ ১১ এর পয়েন্টগুলোর উত্তর সঠিকভাবে দেয়ার সুযোগ নাই বাংলাদেশের । ভারত সরকার বর্তমান বাংলাদেশ সরকারকে একটি অনির্বাচিত সরকার মনে করছে, যেখানে ন্যায় বিচার পাওয়ার কোন সম্ভাবনা ভারত দেখছে না। তাছাড়া ফাঁশির আসামিদের ফেরত না পাঠানোর জন্য আন্তর্জাতিক ভাবেও আইন আছে। ভারত এই রায় কে প্রতিহিংসা মূলক রায় হিসাবেও দেখছে ।
ভারতীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রত্যর্পণ চুক্তিতে স্পষ্ট ব্যতিক্রম রয়েছে। আর সেটি হলো—যদি অপরাধটি ‘রাজনৈতিক প্রকৃতির’ হয় তাহলে চুক্তি প্রত্যর্পণে বাধ্যবাধকতা থাকে না। ভারতের দৃষ্টিতে হাসিনার বিচার ও রায় মূলত রাজনৈতিক প্রতিশোধ।
জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সঞ্জয় ভরদ্বাজ বলেন, ‘ভারতের দৃষ্টিতে বাংলাদেশে এখন “অ্যান্টি–ইন্ডিয়া শক্তি” ক্ষমতায় রয়েছে। ইউনূস প্রায়শই ভারতের সমালোচনা করেছেন এবং হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা আন্দোলনের নেতারা প্রায়শই নয়াদিল্লিকে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থনের জন্য দোষারোপ করেছেন।’ ভরদ্বাজ জানান, এই পটভূমিতে, হাসিনাকে হস্তান্তর করার অর্থ হবে ভারতের বিরোধীদের বৈধতা দেয়া।
বাংলাদেশ ও ভারত ঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক বন্ধনের পাশাপাশি প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত। চীনের পরই ভারত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। সম্পর্কের টানাপোড়েন সত্ত্বেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের বাণিজ্য আরও বেড়েছে।
ভারত বহুদিন ধরেই বলে এসেছে, তাদের সম্পর্ক বাংলাদেশের সঙ্গে, কোনো দল বা ব্যক্তির সঙ্গে নয়। কিন্তু বাস্তবে, সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতাটি হয়েছে আওয়ামী লীগের সঙ্গেই। ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধের পর শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষমতায় আসেন। পাকিস্তান ভাগ হওয়ায় ভারতের কৌশলগত জট এক লহমায় কেটে যায়, পূর্ব দিকের প্রতিবেশী শত্রুর বদলে মিত্রে পরিণত হয়।