কলম্বিয়ায় শতাব্দীর শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত বেড়ে ১৩২
১৩ আগস্ট ২০২৬, ৮:৫৮ অপরাহ্ণ
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, নিদর্শন ও দলিল সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রদর্শনের জন্য প্রতিষ্ঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের নিদর্শন সুরক্ষায় কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনের উদ্দেশ্যে প্রণীত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন, ২০২৬’-এ এসব বিধান রাখা হয়েছে। ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল আইনটি প্রণীত হয়। এই আইনের আওতায় প্রতিষ্ঠিত চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের জন্য গড়ে তোলা জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর গত ৫ আগস্ট উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরদিন থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য জাদুঘরটি উন্মুক্ত করা হয়।
আইনের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, জাদুঘরের প্রধান কার্যালয় থাকবে ঢাকার গণভবনে। এছাড়া ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে যেসব গোপন কারাগারে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সেগুলোকে জাদুঘর হিসেবে ঘোষণা, সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের অধিকার থাকবে জাদুঘরের।
কোনো গোপন কারাগার কোনো সংস্থার অধীনে থাকলে সংশ্লিষ্ট সংস্থা সেটি যে অবস্থায় রয়েছে, সেই অবস্থাতেই জাদুঘরের কাছে হস্তান্তর করতে বাধ্য থাকবে। এসব মানবতাবিরোধী কারাগার জাদুঘরের শাখা জাদুঘর হিসেবে পরিগণিত ও পরিচালিত হবে।
আইনের ৫ ধারায় জাদুঘরের কার্যাবলি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ও পলায়ন সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক নিদর্শন ও স্মৃতিচিহ্ন সংগ্রহ ও সংরক্ষণ। পাশাপাশি পূর্ববঙ্গের ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিদর্শন এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকারবিরোধী কার্যক্রম ও ফ্যাসিবাদের উত্থানসংক্রান্ত স্মৃতিচিহ্ন, দলিল ও বস্তু অনুসন্ধান, সংগ্রহ, গবেষণা ও প্রদর্শনের কথাও বলা হয়েছে।
আইনের ১৫ ধারায় বলা হয়েছে, পর্ষদের সুপারিশ ও সরকারের পূর্বানুমোদন নিয়ে প্রদর্শন ও সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, অন্য কোনো জাদুঘর বা কোনো ব্যক্তির সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নিদর্শন স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে বিনিময় করতে পারবে জাদুঘর। একইভাবে নিদর্শন উপহার দেওয়া বা গ্রহণও করা যাবে। তবে এ ধরনের বিনিময় বা উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে চুক্তি সম্পাদন করতে হবে।
আইনের ১৬ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট কোনো নিদর্শন রয়েছে বলে বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকলে মহাপরিচালক বা তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মচারী ওই স্থান পরিদর্শন করতে পারবেন। পরে আইন বা এর অধীনে প্রণীত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
জাদুঘরে প্রবেশাধিকার বিষয়ে আইনের ১৭ ধারায় বলা হয়েছে, পর্ষদ কর্তৃক নির্ধারিত প্রবেশমূল্যের বিনিময়ে সাধারণ জনগণ জাদুঘরে প্রবেশ করতে পারবেন। নিদর্শন ধ্বংস বা ক্ষতিসাধনের বিষয়ে আইনের ২২ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি জাদুঘরের কোনো স্থাবর নিদর্শন বা এর অংশবিশেষ ধ্বংস, বিনষ্ট, পরিবর্তন বা ক্ষতিসাধন করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।
অন্যদিকে আইনের ২৩ ধারা অনুযায়ী, জাদুঘরের কোনো অস্থাবর নিদর্শন চুরি, পাচার, ধ্বংস, বিনষ্ট, পরিবর্তন বা ক্ষতিসাধন করাও অপরাধ। এ অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া আইনের ২৪ ধারায় জাদুঘরের সংগৃহীত বা নিবন্ধিত কোনো নিদর্শনের ওপর খোদাই, লিখন, লিপি উৎকীর্ণ বা স্বাক্ষর করাকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।
আইনের ২৫ ধারায় বলা হয়েছে, জাদুঘরের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এসব অপরাধে অভিযুক্ত হলে প্রচলিত দণ্ডের পাশাপাশি শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। তবে আদালতে মামলা চলমান থাকলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।