বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬

আজ ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস


আজ ৫ আগস্ট ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস। ২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। দিবসটি উপলক্ষে আজ সারা দেশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। সরকার এ উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে।

৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ 

আজ ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

আজ (৫ আগস্ট) ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস। ২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। একই সঙ্গে প্রায় ১৬ বছরের শাসনের অবসান হয়। দিবসটি উপলক্ষে সরকার সারা দেশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এবং আজ সরকারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সূচনা হয়েছিল ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মাধ্যমে। পরবর্তীতে আন্দোলন দমনে সরকারের কঠোর অবস্থান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান, গুলি, প্রাণহানি, গণগ্রেপ্তার এবং দমন-পীড়নের অভিযোগের পর তা দ্রুত সারাদেশে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে রূপ নেয়।

আন্দোলনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমিক, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। আন্দোলনের সময় বিভিন্ন স্থানে গুলিবর্ষণ এবং হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনা হয় এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলে গণহত্যার অভিযোগ উত্থাপিত হয়।

টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের একপর্যায়ে ব্যাপক সহিংসতা ও বহু হতাহতের ঘটনার মধ্যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতন ঘটে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই এই গণঅভ্যুত্থানকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অসন্তোষ, ভোটাধিকার, সুশাসন এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে মূল্যায়ন করেন।

বিশেষ বিবৃতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, এই আন্দোলন প্রমাণ করেছে-জনগণের ঐক্য অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় শক্তি। একই সঙ্গে তিনি গণঅভ্যুত্থানের চেতনা অক্ষুণ্ন রাখতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

সরকারি কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের ৬৪ জেলায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা সভা, স্মরণসভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সংবাদপত্রগুলোতে প্রকাশিত হচ্ছে বিশেষ নিবন্ধ, সাহিত্য ও ক্রোড়পত্র।

আজ সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন করবেন। এরপর সকাল ১১টায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং দিবসটির তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। একই ধরনের অনুষ্ঠান দেশের প্রতিটি জেলাতেও আয়োজন করা হয়েছে।

দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা, রচনা, আবৃত্তি এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতেও আলোচনা সভা ও স্মরণানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক, সড়কদ্বীপ এবং জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ জাতীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন ও আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করা হবে। সরকারি ও বেসরকারি জাদুঘর সারাদিন দর্শনার্থীদের জন্য বিনা টিকিটে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। একইভাবে শিশুদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি বিনোদনকেন্দ্রও বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার, শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র, শিশু বিকাশ কেন্দ্র এবং ভবঘুরে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়েছে।